গোডাউনের মালিকের নাম মারুফ হোসেন। তিনি পলাতক। চুনকুটিয়া এলাকায়ও তার আরেকটি গোডাউন রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ঢাকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোস্তফা মোহসীন বলেন, ‘এই গোডাউনটিতে সোডিয়াম থাইও, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট মনোহাইড্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সোডিয়াম থাইও থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। তবে কোনও নিহতের ঘটনা ঘটেনি। এখানে গোডাউন করার তাদের কোনও অনুমোদন ছিল না।’
স্থানীয়রা জানান, গোডাউনে কোনও মানুষ ছিল না। বিস্ফোরণের ঘটনায় আশপাশের ছয় জন আহত হয়েছেন। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এলাকাবাসী জানান, মারুফ হোসেনের পূর্ববন্দ ডাকপাড়ায় পর পর তিনটি কেমিক্যালের গোডাউন রয়েছে। দুপুর ১টার দিকে প্রথমে একটি গোডাউন থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপরেই তার আরও দুটি গোডাউনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকা প্রকম্পিত হয়। গোডাউনের ছাদ ও ইট উড়ে গিয়ে আশপাশের প্রায় ২০-২৫টি বাড়ির জানালায় পড়ে। গোডাউনের পাশের একটি ভবনের দেয়ালে ফাটল ও দোকানগুলোর সাটার দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, ‘আমার এলাকায় কোনও অবৈধ কারখানা বা গোডাউন থাকবে না। আমি ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জের সব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেছি। অবৈধ কারখানা ও গোডাউনের তালিকার পর এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ, কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান সোহেল ও কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দন সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ বলেন, ‘কিছু দিন আগে কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এরপর থেকেই আমরা অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি। ইতোমধ্যে প্রায় ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। এ গোডাউনে বিস্ফোরণের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেরানীগঞ্জ সার্কেল কামরুল হাসান সোহেলকে আহ্বায়ক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দন সরকার বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন যেন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে ও মানুষের মালামাল লুটপাট না হয় সে বিষয়ে নিরাপত্তা দিয়েছি। তবে আহতের বিষয়ে কিছুই জানি না ।’
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সিআইডির এক্সপার্ট টিম, বিস্ফোরক পরিদফতরের অভিজ্ঞ লোকজন ও কেমিক্যাল বিভাগের এক্সপার্ট লোকজন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করছেন। আহতের বিষয়টি জানি না।’
আরও পড়ুন: কদমতলীতে কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন