দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত লোকবল নেই: মেয়র খোকন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ভূমিকম্পসহ রাজধানীর যে কোনও দুর্যোগ মোকাবেলার দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের। কিন্তু আমাদের সে রকম সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত লোকবল নেই। আইন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকার কথা থাকলেও তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

এ সমস্যার নিরসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

স্থানীয় সরকার ও আবাসন বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম-বাংলাদেশে’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মেয়র এ কথা বলেন। মঙ্গলবার দুপুরে নগরভবনে মেয়রের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মেয়র তার গত আট মাসের অভিজ্ঞতা, চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

মেয়র বলেন, ভূমিকম্পসহ দুর্যোগ মোকাবেলা সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে ১৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে আগামী ফেব্রয়ারি-মার্চে। তিনি জানান, প্রকল্পের বাস্তবায়নের মূল ভূমিকায় থাকবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

তিনি বলেন, দুর্যোগে মোকাবেলায় আমাদের প্রশিক্ষিত লোকবল না থাকলেও একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে যে, ঢাকায় বড় ধরনের দুর্যোগ হলে প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সব ধরনের ছুটি বাতিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নগরভবন চলে আসতে হবে।

স্থানীয় সরকার আইনের সঙ্গে সরকারি কর্মকাণ্ডের অসঙ্গতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে সাঈদ খোকন বলেন, রাস্তা তৈরি ও সংস্কার করি আমরা, সড়কবাতিও স্থাপন করি আমরা। অথচ যানবাহন থেকে আদায়কৃত অর্থ পায় বিআরটিএ। আর আমাদেরকে থোক বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে ধর্ণা দিতে হয়। সিটি করপোরেশনের অর্থ সংকটের এটাও একটা কারণ।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ ভাগ ঢাকায় বসবাস করে। প্রতি বছর যে বাজেট ঘোষণা করা হয় সে অনুপাতে রাজধানীর জন্য অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বাজেট রাখা উচিত। কিন্তু আমরা সেটি পাই না। এ টাকার জন্য সরকার, দাতা সংস্থার দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
মেয়র বলেন, আগামী ১৫ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণের ৩০০ রাস্তার কাজ শুরু হবে। এসব রাস্তার ৭৫ শতাংশ বিভিন্ন এলাকার ভেতর। অলিগলিও আছে। এগুলো হবে কংক্রিটের। কারণ কংক্রিটের রাস্তা ৫/১০ বছরে নষ্ট হয় না। এ ছাড়া প্রধান সড়কগুলো বিটুমিন দিয়ে মেরামত করা হবে। বিটুমিন দিয়ে দ্রুত কাজ করা যায়।
মেয়র বলেন, ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য রাস্তার পাশে ‘কমন ইউটিলিটি ডাক্ট’ বা টানেল নির্মাণ করা হবে। এই টানেল দিয়ে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ যাবতীয় সেবামূলক লাইন যাবে। এটা করতে পারলে ঘনঘন আর রাস্তা খুঁড়তে হবে না।

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে জনদুর্ভোগের বিষয়ে মেয়র বলেন, ফ্লাইওভারের নিচে অনেক প্রশস্ত ডিভাইডার নির্মাণ করায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এখন এসব জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আমরা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে বলেছি, হয় তারা ওটা ভেঙে ফেলবে, না হলে আমরা ওখানে নার্সারি বানানো অথবা পাকা করে দেব।

সাঈদ খোকন বলেন, সরকারের করের ওপর কর বসানোর অধিকার সিটি করপোরেশনের আইনে আছে। এ ব্যাপারে আমরা অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং হাসপাতালের কাছে ৪৩ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া আছে। আমরা এই বকেয়া উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

নগরবাসীকে চলমান পরিচ্ছন্ন অভিযান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, আসুন যার যার যার বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান এবং আশেপাশের এলাকায় অন্তত একদিন হলেও পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান পরিচালনা করি। তাহলে সবাই একটি সুন্দর নগরীতে বসবাস করতে পারব।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি এম. ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক অমিতোষ পাল, সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক রেজা করিম, অর্থ সম্পাদক আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহ, দফতর সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য সায়ীদ আব্দুল মালিক প্রমুখ।

/ওএফ/এফএ/

/আপ: আরএ/