ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার মানুষ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ পার হয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ২০টি ফেরি যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ঈদের ছুটির প্রথম দিন বুধবার ভোরে যানবাহনের কিছুটা চাপ থাকলেও সকাল ১০টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ফেরি দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহনের চেয়ে দ্বিগুণ মোরসাইকেল পার হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৮০০ মোটরসাইকেল পার হয়েছে পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে বাড়ি ফেরেন ওই অঞ্চলের মানুষ। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এই রুটে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ অর্ধেকে নেমে এসেছে।
ঈদযাত্রার প্রথম দিন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। দূরপাল্লার বাসের তুলনায় প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের চাপ কিছুটা বেশি। তবে পারাপারে কোনও ভোগান্তি নেই। স্বস্তি নিয়েই ফেরি পার হচ্ছে ঘরমুখো মানুষ।
যানজট এড়াতে পাটুরিয়া ঘাটের প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে টেপড়া এলাকা থেকে বিকল্প সড়ক দিয়ে ঘাটে যাচ্ছে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল। সব মিলিয়ে ফেরি ঘাটে আসার মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মদ্যৈ যানবাহন উঠে যাচ্ছে ফেরিতে।
ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে নিরাপদে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরি, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে সাতটি এবং নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া নৌরুটে তিনটি ফেরি চলাচল করবে। এছাড়া পাটুরিয়া-আরিচা নৌরুটে ৩৩টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশেন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ জানান, এবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নৌরুটে ছোট-বড় মিলে ২০টি ফেরি নৌবহরে যুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঘাট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি শেষ করেছে। আমরা ঈদে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনগুলোকে নিরাপদে নৌরুট পারাপার করতে প্রস্তুত। সকালের দিকে কিছু যাত্রী ও যানবাহন ছিল, তবে তা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পার করা হয়।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পণ্যবাহী ট্রাক পার হয়েছে ৯০০, দূরপাল্লার বাস ৯৫০ ও মোটরসাইকেল পার হয়েছে এক হাজার ৮০০টি।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলে ২০টি ফেরি চলাচল করছে। এছাড়া আরিচা-কাজিরহাট রুটে আরো ৭টি ফেরি চলাচল করছে । এবারের ঈদযাত্রায় ফেরিঘাট এলাকায় ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষ নৌরুট পার হতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি।