অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ চালককে দুদিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (২০ জুন) নিখোঁজের লাশ উদ্ধারে অভিযান স্থগিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে রবিবার দিবাগত রাত ৩টায় সেতুর ২১ নম্বর পিলারের ওপর থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়েন তিনি।
উদ্ধার অভিযান প্রসঙ্গে লৌহজং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, নদীতে পড়ার ১০ ঘণ্টা পার হওয়ায় ধারণা করছি, লাশটি আর পানির নিচে নেই। তাই এখন আর ডুবুরি দিয়ে নিখোঁজের সন্ধানে অভিযান চালানো হচ্ছে না। তবুও আজ নদীর পাড়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েছি।
নিখোঁজের দুই দিন অতিবাহিত হলেও পদ্মা উত্তর থানায় কোনও (লিখিতভাবে) অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি নিখোঁজের স্বজনদেরও সন্ধান মেলেনি। এ বিষয়ে থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি। তাছাড়া এই ঘটনার আমাদের এলাকায় পড়েনি। তাই আমরা কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছি না।
সেতুর টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে রিকশাচালকের ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন, বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া প্রসঙ্গে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সোহেল আহমেদ নামে এক সদস্য জানান, রিকশা নিয়ে সেতুতে ঢোকার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু উল্টোপথে রিকশা চালিয়ে যাওয়ায় তাকে থামানো সম্ভব হয়নি।
মাঝিঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, এ বিষয়ে সরকারি কোনও দফতর থেকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে নিখোঁজের সন্ধানে আমরা কোনও অভিযান পরিচালনা করিনি।
মাওয়া নৌপুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, সেতুর ২১ নম্বর পিলারের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। এটা আমাদের এলাকার বাইরে পড়েছে। মাদারীপুরের শিবচরে পড়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
মাদারীপুর চর জানাজা নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. জাহানুর আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নদীতে প্রবল স্রোত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ইতোমধ্যে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে লাশের সন্ধান পায়নি। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং তার পরিচয় মেলেনি। নিখোঁজের স্বজনদের কাউকে পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র তার রিকশাটি আলামত হিসেবে পাওয়া গেছে। পদ্মা সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ থানা এটা বলতে পারবে।