মাদারীপুরে মসজিদের ইমামের থাকার ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরটির টিনের বেড়া উড়ে গেলেও কেউ হতাহত হননি। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকালে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোগলপাতিয়া এলাকার আল-আকসা আকন বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদার মসজিদের পাশের একটি ঘরে থাকেন। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। ওই ঘরের চাবি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ তিন জনের কাছে রাখা ছিল।
মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ ওই ঘর থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরের টিনের বেড়া উড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে মসজিদের সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, “মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।”
১৭ দিনে তিন বিস্ফোরণ
এর আগে গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এরও আগে গত ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রাসাটির পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হয়।
গত ১৭ দিনের ব্যবধানে জেলার তিনটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও পরিত্যক্ত বাসাবাড়িতে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
তবে পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন এবং স্থানীয় বিরোধ বা আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, “মাদারীপুরে ঘরে ঘরে ককটেল বোমা তৈরির একটি প্রচলন রয়েছে। এখানে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, সামাজিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে এ ধরনের বোমাজাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করে।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি মাদারীপুরে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের প্রতিটি পৃথক পৃথক ঘটনাই বিরোধ বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হতে পারে, যা বলা যায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অন্য কোনও বিষয় এখানে নেই।”
পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।