নারায়ণগঞ্জে নৌ-পুলিশ কর্মকর্তার অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার এএসআই আব্দুল মান্নানের মাদক সেবন করে গানের সঙ্গে উদ্যম নেচে এলোমেলো কথাবার্তা বলা, ঘাটের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর এবং টাকা ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এ ঘটনায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, গানের সঙ্গে উদ্যম নেচে এলোমেলো কথাবার্তা বলছেন সদর নৌ থানার এএসআই আব্দুল মান্নান। এ সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুরসহ ঘাটের টাকা ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ছাড়া স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ ও মারধরের কথাও ভিডিওতে উঠে আসে। ভিডিওর একপর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে দাবি করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাকে মাদক সেবন করে মাতলামি করার বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এএসআই মান্নানের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ঘাটের টাকা পানিতে ফেলে দেওয়া ও মালামাল ভাঙচুরের বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ওসি মো. রাকিবুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পারিবারিকভাবে সমস্যা হওয়ায় সদর নৌ থানার এএসআই আব্দুল মান্নান আসলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এখনও তিনি স্বাভাবিক হননি। তিনি গত ২০ দিন আগে আমাদের থানায় যোগদান করেছেন। এ ঘটনার জেরে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

মাদক সেবনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও দেখেছি। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তবে মদ পান করে এমনটা করেছেন কি না, তা তদন্ত শেষে বলা সম্ভব হবে।’

ঘাটের জিনিসপত্র ভাঙচুর ও পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি কোনো ঘাটে ভাঙচুর করেছেন এমন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। এ ছাড়া পুলিশের চাকরিতে তিনি এখনও আছেন। অসুস্থতার কারণে ভিডিওতে তিনি এসব উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন।’

নৌ পুলিশের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের এসপি মো. আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’