বাঁধনের ওপর হামলা: মনিরুলকে নিয়ে বিপদে পড়ে গেলো তার পরিবার

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠার পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল হাওলাদারের পরিবার ঘরে তালা দিয়ে গ্রাম ছেড়েছে। মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তার পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানান প্রতিবেশীরা।

এর আগে সোমবার ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় মনিরুল হাওলাদার (২৪) নামের ওই ছাত্রলীগ নেতা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকায়। মনিরুল নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। 

হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে যান স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তার পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকে মনিরুলের বাড়িতে সকাল থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিবারের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ করেছে। যেহেতু ঘটনা দেশের বাইরে, তাই তার বিরুদ্ধে ওই দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা মনিরুলের বাড়িতে এখনও ঘটেনি। কেউ যেন তাদের বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি সব ধরনের সহযোগিতাও করছেন।’

ইতালিপ্রবাসী মনিরুল ইসলাম ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়েন তিনি।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই মনিরুলের বাড়িতে লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সকালই মনিরুলের বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন আসতে শুরু করে। পরে ভয় পেয়ে বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়েছেন। কোথায় গেছে, তা বলতে পারছি না।’

মনিরুলের বাড়িতে দুটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর রয়েছে। একটি চারচালা, অন্যটি দোচালা। বাড়িতে তার মা ও বড় ভাই থাকেন। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমান মনিরুল। এলাকায় থাকা অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মনিরুল গ্রামের বাড়িতে এখনও বাড়িঘর করতে পারেননি। ২৮ লাখ টাকার ঋণের বোঝা ওর মা ও ভাইয়ের মাথার ওপরে। টাকাপয়সা কামানো বাদ দিয়ে বিদেশে গিয়াও দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এ দেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নাই।’

জেলা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব আরিয়ান সায়েম বলেন, ‘সকালে ঢাকা থেকে জুলাইযোদ্ধা আয়ান মাদারীপুরে আসেন। পরে আমরা পুলিশ নিয়ে মনিরুলের গ্রামের বাড়িতে যাই। মনিরুলের বাড়িতে তালা দেওয়া। আমরা আসার আগেই তারা ঘর ছেড়ে চলে যান। মনিরুলের বাড়িতে আধা ঘণ্টা ছিলাম। কেউ মব করার চেষ্টাও করেনি। আমরা আসার পরে কেউ কিছু করেছে কি না, জানি না।’

আরিয়ান সায়েম জানান, তারা সেখানে যাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও আসেন। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মনিরুলের বিচারের দায়িত্ব নেন।

এ বিষয়ে ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘মনিরুল দেশে থাকতে ছাত্রলীগ করেছে। এখনও বিদেশে বসে ছাত্রলীগ করে বলে জেনেছি। কিন্তু এভাবে ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি। সকালে কিছু লোক এসেছিলেন। তারা মনিরুলের বিচার দাবি করে চলে গেছেন। আমি বাড়িতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছি। সদর থানা পুলিশও বিষয়টিতে নজর রেখেছে।’

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে তার ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছিল।