টেকনাফে নিহত সেনাসদস্যের মরদেহ যাচ্ছে গ্রামের বাড়ি

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের (২৭) মরদেহ গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায় নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

তিতাস শেখ নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার বছর আগে নগরকান্দার বারখাদিয়া এলাকার টুলু শেখের মেয়ের সঙ্গে তিতাসের বিয়ে হয়। তাদের কোনও সন্তান নেই।

নগরকান্দা থানার ওসি রসুল সামদানী জানান, সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী গ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারবিরোধী যৌথ অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে এ অভিযানে বিজিবি ও পুলিশ অংশ নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মানবপাচারের উদ্দেশ্যে শতাধিক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে অপহরণ করে পাহাড়ের একটি গোপন আস্তানায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছিল বলেও তথ্য ছিল যৌথবাহিনীর কাছে। অভিযানের সময় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সৈনিক তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, অভিযানের সময় তিতাসের কাঁধে গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে পাঁচজনকে। এ ছাড়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালেও পাহাড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত ছিল। মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছেন বাহিনীর সদস্যরা।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। মানবপাচারকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসী তৎপরতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

এদিকে তিতাস শেখের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে আইএসপিআর। এক শোকবার্তায় বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এই তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।