সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতকে চাপা দেওয়া লরির চালককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতার চালকের নাম রিয়াজ উদ্দিন (৩২)। তিনি নোয়াখালী সদর থানার বাটির টেক এলাকার আবু তাহেরের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। ওই দিন রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা এসপি মাসুদ আলম।
পুলিশ জানায়, মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রায় ছয় ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়ক ও রেল যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর অন্যতম ছিল দুর্ঘটনায় জড়িত লরির চালককে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় আনা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালককে গ্রেফতার করে।
চট্টগ্রাম জেলা এসপি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে অভিযুক্ত চালককে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মাইশা মুশফিরাত (২১)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (ইএলএল) বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি মিরসরাই উপজেলার বটতাকিয়া, খৈয়াছড়া এলাকায়। তিনি সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি লরি ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে মাইশাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লরির ধাক্কায় বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক-রেলপথ অবরোধ