হিমায়িত চিংড়ি রফতানি: এক বছরে আয় কমেছে ২১২ কোটি টাকা

খুলনা অঞ্চল থেকে হিমায়িত চিংড়ি রফতানি হ্রাস পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর রফতানি কমেছে ২.৩৪ মিলিয়ন কেজি, যার মূল্য ২১১ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।দেশে চিংড়ির উৎপাদন কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস এবং ‘ভেনামি’ চিংড়ির বাজার দখলের কারণেই চিংড়ি রফতানি হ্রাস পেয়েছে।

খুলনার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে খুলনা অঞ্চল থেকে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে চিংড়ি রফতানির পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন কেজি। এর বাজার মূল্য ছিল এক হাজার ৮০১ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর ২০১৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে রফতানি হয়েছে ১৮ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন কেজি। একই সময়ের মধ্যে সাদা মাছ রফতানি হয় ১৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন কেজি। যার বাজার মূল্য ১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি তিন মাসেও রফতানি আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ। সবমিলিয়ে তুলনামূলকভাবে এক বছরের ব্যবধানে ২১১ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার রফতানি আয় কমেছে।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে দু’কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে না সরকারি অফিসগুলো

হিমায়িত চিংড়ি রফতানি কমার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সনাতন পদ্ধতিতে চাষের কারণে দেশে চিংড়ির উৎপাদন অনেকাংশে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির মূল্য হ্রাস এবং ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা ও ভিয়েতনামসহ বেশ কয়েকটি দেশে উৎপাদিত ‘ভেনামি’ চিংড়ি বাজার দখল করায় দেশি চিংড়ি টিকতে পারছে না। ফলে চিংড়ি রফতানি কমেছে।

 

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতিতে দেশি চিংড়ির উৎপাদন হেক্টর প্রতি ২শ’ থেকে ৩শ’ কেজি। সেখানে সেমি ইনসেন্টিভ (আধা নিবিড়) পদ্ধতির চাষে হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কেজি পর্যন্ত।খুলনার দাকোপ এবং সাতক্ষীরাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় আধুনিক এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে অনেকেই সাফল্য পেয়েছেন। অপরদিকে, ‘ভেনামি’ চিংড়ির উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দেশি চিংড়ি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

খুলনা জেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুজ্জামান বলেন, চিংড়ি চাষ বিরোধী আন্দোলন, ভাইরাস সম্পর্কে চাষীদের সঠিক জ্ঞান না থাকা, বৈরি আবহাওয়া, চাষীদের পুঁজি সংকট, লাগসই প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব এবং ব্যাংক লোন পেতে জটিলতার কারণেই পর্যাপ্ত উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: আইএস’র দায় স্বীকারের নেপথ্যে সন্দেহ করা হচ্ছে আসলামকে

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, খুলনার সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল হাসান বলেন, বিদেশে চিংড়ি রফতানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ও কমেছে। চাষীদেরও চিংড়ির রোগ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই। পানির লবণাক্ততা এবং খাবারের মান সম্পর্কেও তারা সচেতন নন। নিয়মিত পরিচর্যা না করাসহ বিভিন্ন কারণে উৎপাদন কমে গেছে। তবে দেশে ‘ভেনামি’ চিংড়ি চাষের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

 

/এমও/টিএন/