খুলনায় বাড়ছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার, ১০ মাসে জব্দ ১০১ মণ

1448452220আজ রবিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে খুলনায়ও রয়েছে নানা আয়োজন। পরিবেশকে নিরাপদ রাখতে তৎপর পরিবেশ বিভাগ। তারপরও থেমে নেই অপরাধীদের কার্যক্রম। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার হচ্ছে দেদারছে। গত ১০ মাসে অভিযান চালিয়ে ১০১ মণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে পরিবেশ বিভাগ। কালো ধোঁয়া বন্ধের পদক্ষেপ হিসেবে গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে পাঁচটি। খাবার হোটেলের পানিতে মিলেছে অতিমাত্রার ক্ষতিকর কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া। যা নিয়ে পরিবেশ বিভাগও উদ্বিগ্ন। খুলনা পরিবেশ বিভাগকে ডিজিটাল সিস্টেমে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জুলাই থেকে যেকোনও ধরনের টেস্টের রিপোর্ট অনলাইনে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান বলেন, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫৩টি স্পটে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৪৪ কেজি ৩শ গ্রাম পলিথিন উদ্ধার করেছি এবং জড়িতদের ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করেছি। গাড়ির কালো ধোঁয়া পাওয়া যায় খুব কম। এ ক্ষেত্রে ৫টি মামলায় ৭ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করেছি। ওই সময়ের মধ্যে ৩৩টি ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে ১৫ লাখ ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।

পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় অফিসের পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, এই অফিসে যোগদান করে দেখেছি দালালদের দৌরাত্ম বেশি। প্রশাসন দিয়ে একাধিক অভিযান চালিয়ে অফিসটিকে দালাল মুক্ত করেছি। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করছি। শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়ে সেমিনার করছি বছরে ছয়টা। ফিডব্যাক ভাল পাচ্ছি। আমিই এখানে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মত তথ্য সেবা কেন্দ্র করেছি। অনলাইনে টেস্ট রিপোর্ট চলতি বছরের জুলাই থেকে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। ইন্ডাস্ট্রিগুলো লাল ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করে ডাটাবেজ করা হয়েছে।

এছাড়া খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে এখন রয়েছে তাৎক্ষণিক সেবা ডেস্ক। প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার এখানে গ্রাহক সেবা দেওয়া হয়। দক্ষিণাঞ্চলের ২৪টি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগতরা এখন তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান ডেস্ক থেকে সহযোগিতা পেয়ে দিনে দিনে কাজ শেষ করতে পারছেন। এখন সব কিছুই ডিজিটাল সিস্টেমে চলছে। গ্রাহকদের ই-মেইল খুলে দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের সব রকম সহযোগিতা এই ডেস্ক থেকে করা হয়। এখন থেকে গ্রাহক নিজেই নিজের ইন্টারনেট সংযোগ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের সেবা পেতে পারবে।

খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরি বিভাগের কেমিস্ট এস এম শরিফুর রহমান বলেন, আমরা ছাড়পত্র দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। অভিযোগ পেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। ল্যাবরেটরি বিভাগ শিল্প কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বায়ুর গুণগত মান নিশ্চিত করে। এই বিভাগটি নদ-নদীর পানি, টিউবওয়েল ও হোটেলগুলোতে ব্যবহৃত পানির উপযোগিতাও পরীক্ষা করে থাকে। সম্প্রতি মহানগরীর কয়েকটি খাবার হোটেলের পানিতে অতিমাত্রার কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ প্রশাসন উদ্বিগ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি ১০ মি.লি. পানিতে ৫০টির কম ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা সহনীয় পর্যায়। এর বেশি হলেই তা উদ্বেগজনক ও ক্ষতিকর। মিল, কল-কারখানা, গাড়ির হাইড্রোলিক হর্ন শব্দ দূষণ করছে কিনা তাও দেখভাল করছে বিভাগটি। সমস্যা পেলে প্রয়োজনীয় স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

২০১৪ সালের শেষের দিকে সুন্দরবন সংলগ্ন শেলা নদীতে তেলবাহী জাহাজ ডুবিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বিশ্বের পরিবেশবিদরা। তেলবাহী জাহাজ ডুবিতে গোটা সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়ে। তখন রুটটি নিষিদ্ধ হয়। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে। এ অবস্থার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় অফিস প্রতিনিয়ত সুন্দরবন সংলগ্ন শেলা, পশুর নদীসহ সকল নদ-নদীর পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় অফিস থেকে সপ্তাহে দুদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা ওয়াসার এতো প্রকল্প, তবু সংকট বিশুদ্ধ পানির!

চট্টগ্রামে পুলিশ সুপারের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা

/বিটি/