খুলনায় ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই বছর ধরে চলছে ৮ম শ্রেণির পরীক্ষামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। ২০১৪ সালে চালু করা এই শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণিতে সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থী রয়েছে।
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সফল করতে খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে ৬ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে কর্মসূচি সফল করার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা অবকাঠামো ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব দূরীকরণে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কমিটি গত ১৮ মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষানীতির আলোকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সফল করতে খুলনায় প্রস্তুতি ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে। দু’বছর আগে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখন অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়রা উপজেলার জোড়শিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তেঁতুলতলা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেরখাদা উপজেলার কাটেংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাকোপ উপজেলার মৌখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ কলাবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনী মহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকগাছা উপজেলার বাসাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলতলা উপজেলার পশ্চিম শিরোমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বটিয়াঘাটা উপজেলার পুঁটিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রূপসা উপজেলার নন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ ফজলে রহমান জানান, ৬ দফা সুপারিশের অন্যতম হচ্ছে প্রতিটি বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৮টি শ্রেণি কক্ষ, বিএ (সম্মান) পাশ ইংরেজি শিক্ষক, বিএসসি (সম্মান) পাশ গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ক পারদর্শী শিক্ষক প্রয়োজন। এছাড়াও সিঙ্গেল ও ডবল শিফট ভিত্তিতে শিক্ষক বরাদ্দ, চলমান কারিকুলামের পরিবর্তন, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির জন্য পাঠ্যবই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং ডিপ্লোমা অ্যান্ড এডুকেশনের কারিকুলামের পরিবর্তনও রয়েছে সুপারিশে।
জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. তবিবুর রহমান জানান, যে সব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি চালু করা হয়েছে সেখানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন নিয়োগ এবং পদোন্নতি না হলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ হবে না।
উল্লেখ্য, খুলনা জেলার ৬২৫টি প্রধান শিক্ষক পদের মধ্যে ১১৬টি পদ শূন্য এবং ৩ হাজার ৫৭০টি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে ২৫৫টি পদ শূন্য।
আরও পড়ুন: যে হাটে সপ্তাহে বিকোয় দেড় হাজার কোটি টাকার কাপড়!
/টিএন/