খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীতে প্রায় ৮৭টি ছোট-বড় বেসরকারি ক্লিনিক ও ৮৭টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে ক্লিনিক রয়েছে ৩৮টি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৩৪টি।
খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, খুলনায় একটি মাত্র ক্লিনিক ছাড়া অন্য কোনও ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। সব প্রতিষ্ঠানকে ৩টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় স্বাস্থ্য অধিদফতর আমাদের ছাড়পত্র দেওয়ার আগেই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দিয়ে দেন। যে কারণে তারা পরবর্তিতে আর ছাড়পত্র নিতে আগ্রহী হয় না। কেউ নিলেও তা পরবর্তী সময়ে আর নবায়ন করেন না। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বর্জ্য অপসারণ বা ইনসিনারেটর নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ব্যাপারে কোনও আইন নেই। বিদ্যুৎ বিভাগে বলে শুধুমা তাদের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে। তবে সেটিও একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক আরও বলেন, মহানগরীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, আদ্বীন হাসপাতাল ও গাজি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া এসব ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার কিভাবে অনুমোদন পেল তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। তিনি বলেন, তবে, গাজী মেডিক্যালের পরিবশেগত নয়, অবস্থানগত ছাড়পত্র থাকতে পারে।
এদিকে গাজি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বলেন, আমাদের পরিবেশেগত ছাড়পত্র রয়েছে। পরিবেশ বিভাগের নির্দেশনার আলোকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৫টি পাত্র রাখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সব বর্জ্য প্রতিদিন শোধন ছাড়াই নির্গত হচ্ছে খোলা পরিবেশে। বিপুল পরিমাণ এই ক্লিনিক্যাল বর্জ্য প্রতিনিয়ত খুলনার পরিবেশকে দূষিত করে চলেছে। ইতোমধ্যে ভৈরব ও রূপসা নদীর পানি ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এই দূষণ রোধে আইন ও শাস্তির বিধান থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেই খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. মাসুম আলী বলেন, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অনুমোদনের অথরিটি রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিচালকেল (হাসপাতাল)। আমরা পরিদর্শন শেষে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি রিপোর্ট দেই। আমাদের নীতিমালায় পরিবেশের বিষয়টি উল্লেখ আছে কিনা, তা জানা নেই।
খুলনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের মালিক ও বিএমএ’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. বাহারুল আলম বলেন, একটি ইনসিনারেটর স্থাপন করতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়। যা প্রতিটি ক্লিনিক মালিকের পক্ষে স্থাপন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন নির্গত বর্জ্যের ৮০ শতাংশ নির্গত হয় রাষ্ট্রায়ত্ত হাসপাতাল থেকে। যা পরিশোধনের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতরের কোনও উদ্যোগ নেই।
পরিবেশ অধিদফতরের নিজস্ব উদ্যোগে একটি ইনসিনারেটর (বর্জ্য শোধনাগার) স্থাপন করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদফতর যদি ক্লিনিক বান্ধব হয়, তবে নির্দিষ্ট ফি’র মাধ্যমে ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা তারাই চালু করতে পারে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিতে নানা জটিলতা রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব ইনসিনারেটর (বর্জ্য পরিশোধন) ব্যবস্থা থাকার শর্ত রয়েছে, যা স্থাপন করা অত্যন্ত ব্যয় বহুল।
আরও পড়ুন: সিলেটে জামাল হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
/এআর/এমএনএইচ/