সাংবাদিক শামছুর রহমানের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০০০ সালের এই দিন যশোরের দড়াটানায় নিজ অফিসে (দৈনিক জনকণ্ঠ) কর্মরত অবস্থায় আঁততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন। ঘটনার পরদিন তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। তবে ১৬ বছরেও শেষ হয়নি এ মামলার বিচার।
২০০১ সালের ২০ মে সিআইডির তৎকালীন এএসপি দুলালউদ্দিন আকন্দ ১৬জনকে আসামি করে আদালতে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিরা হলেন, যশোরের সেলিম ওরফে পাগলা সেলিম, জহির বাদশা, জাহাঙ্গীর, সেলিম ওরফে খচ্চর সেলিম, মিজানুর রহমান, রাসেল, আনারুল, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের নাসির উদ্দিন কালু, খুলনার হিরক, লিটু, দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান তোতা, যশোর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফকির শওকত, সাংবাদিক ও গবেষক বেনজীন খান, সাংবাদিক নোভা খন্দকার ও মিলন রহমান।
আসামিদের মধ্যে খুলনার লিটু ক্রসফায়ারে, আনারুল সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে। নাসিরউদ্দিন কালু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। হিরক পলাতক রয়েছে। এছাড়া অন্যরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
২০০৫ সালের আগস্টে মামলাটি যশোর আদালত থেকে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। কিন্তু মামলার বাদী ও কয়েকজন আসামি ওই আদালতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করতে হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট ‘মামলাটি কেন যশোর আদালতে নেওয়া হবে না’- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজও সেই ব্যাখ্যা দেয়নি।
২০০৫ সালের আগস্ট মাসে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুস সামাদ হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। সেই থেকে মামলাটি স্থগিত অবস্থাতেই আছে।
নিহত সাংবাদিক শামছুর রহমানের ভাই দৈনিক জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার সাজেদ রহমান জানান, সিআইডি গোঁজামিল দিয়ে চার্জশিট দেওয়াতেই প্রকৃত আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। উল্টো নিরীহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকবার যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে জানিয়েছিলাম- মামলাটি পুন:তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার। কিন্তু গত ১১ বছর ধরে সেটি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।’
যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, ‘মামলায় কিছু সাংবাদিককে জড়িয়ে চার্জশিট দেওয়ার কারণেই তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। সে কারণে বিচার হচ্ছে না।’
এদিকে, সাংবাদিক শামছুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিক ইউনিয়ন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
/এসটি/