যশোরে আত্মসমর্পণকারী হিযবুত তাহরীরের ৩ নেতা জেলহাজতে

আদালতযশোরে আত্মসমর্পণকারী হিজবুত তাহরীরের তিন নেতাকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এরা হলো সাদ্দাম ইয়াসির সজল (৩২), রায়হান আহমেদ (২০), মেহেদি হাসান পাশা(২০)।
কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (মামলা নম্বর ৫৩) তাদের আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাবীন নিম্মীর আদেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার পুরাতন কসবা পুলিশ লাইনের গেটের সামনে থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের কাছ থেকে ৬০টি লিফলেট জব্দ করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী ওই তিনজনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার আরও দুই যুবক ওই সংগঠনে যোগদান করেছেন। এই দুই যুবক হলেন শাওন (২২) এবং একই এলাকার তাহেরের ছেলে রাশেদ (২২)।

মামলার আসামিরা হলেন, খোলাডাঙ্গা কদমতলা এলাকার মৃত শফিয়ার রহমানের ছেলে সাদ্দাম ইয়াসির সজল (৩২), একেএম শরাফত মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান পাশা (২০), খোলাডাঙ্গা ধর্মতলা এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে রায়হান আহমেদ (২০), ঢাকা উত্তরা থানার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়ির আব্দুল মতিনের ছেলে মোসাব্বির (৩০), দক্ষিণখান থানার আশকোনা কলেজ রোডের ৪০১ নম্বর বাড়ির মৃত হাশেম আলীর ছেলে হারেজ আলী (২৭), যশোর শহরতলীর পুলেরহাট কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের পাশের মহিউদ্দিন (২৮) এবং আরবপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ফকরুল ইসলাম তুষার (২১)।

মামলার এজাহারে লিফলেটের ভাষ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারীরা তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছে, দেশে চলমান জঙ্গিবিরোধী অভিযান এবং পুলিশের জঙ্গিবিরোধী পোস্টার ও লিফলেট বিতরণের পর পারিবারিকভাবে তারা খুব চাপের মুখে পড়েছে। এতদিন তারা ভুল পথে ছিলো। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন তাদের ক্ষমা করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সুযোগ দেন।

এহাজারে আরও বলা হয়েছে, জঙ্গি মোসাব্বিরের মাধ্যমে অনেকে এ দলে যোগ দিয়ে শিক্ষানবিশ অংশ পাস করেছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে হিজবুত তাহরীরের তিন নেতা যথাক্রমে যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা কদমতলা এলাকার মৃত শফিয়ার রহমানের ছেলে সাদ্দাম ইয়াসির সজল (৩২), ধর্মতলা মোড় এলাকার আবদুস সালামের ছেলে রায়হান আহমেদ (২০) এবং খোলাডাঙ্গা কদমতলার একেএম শরাফত মিয়ার ছেলে মেহেদি হাসান পাশা (২০) পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

খুলনা পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক মনির-উজ-জামান জানান, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সাদ্দাম ইয়াসির সজল হিজবুত তাহরীরের নেতৃস্থানীয়। তার পদবী মোশরেক; অপর দু’জন হলেন তার পরের সারির নেতা - যাদের পদবী হচ্ছে শাবাব।

/এইচকে/

আরও পড়ুন: বাগমারায় জেএমবি সদস্য কামাল গ্রেফতার