নড়াইলে তিন দিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ শুরু হচ্ছে আজ

এস এম সুলতাননড়াইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ আজ  মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯২ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠের সুলতান মঞ্চ চত্বরে আজ  বেলা সাড়ে ৩টায় তিন দিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ এর  উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি হেলাল মাহমুদ শরীফ। এ দিন আর্টক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম।

সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ জানান,তিন দিনব্যাপী  ‘সুলতান উৎসব’ বর্ণাঢ্য আয়োজনে সফল করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিদিন শিল্পীর জীবন ও শিল্পকর্ম নিয়ে সুলতান মঞ্চে থাকছে আলোচনা সভা। এ উৎসবে কলকাতা আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুমন পালসহ বেশ কয়েকজন চিত্রশিল্পী উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান।

এছাড়া আগামী ১ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটায় চিত্রা নদীতে গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্য নারী-পুরুষ দলের আকর্ষণীয় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সুলতান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকু। নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় নারী এবং পুরুষদের প্রায় ১৫টি দল অংশগ্রহণ করবে বলে আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে। চিত্রা নদীর নড়াইল ফেরিঘাট থেকে শুরু হয়ে রপগঞ্জ সুলতান ব্রিজের (চিত্রা সেতু) কাছে গিয়ে শেষ হবে এ নৌকা বাইচ।

সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শিল্পী নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, শিল্পী সুলতানের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী সুলতান উৎসব। শিল্পীর জন্মস্থান নড়াইলে উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের উৎসব। এ উৎসবে পার্শ্ববর্তী যশোর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, খুলনা, ফরিদপুরসহ দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা আসেন।

এ উৎসবে গ্রামীণ কুঠির শিল্পসহ বিভিন্ন পণ্যের ৬০টি স্টল বসেছে।

বরেণ্য শিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরতলীর মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর চিরকুমার,অসাম্প্রদায়িক এই শিল্পী যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এস এম সুলতান স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সম্মাননা এবং বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি পান।

/বিটি/