ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স কার্ড দেবে কেসিসি

খুলনাখুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) চলমান ট্রেড লাইসেন্স জরিপ কার্যক্রম ১৬ অক্টোবর শেষ হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে কেসিসি থেকে সব ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কেসিসি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত চলা জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে ট্রেড লাইসেন্স সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন অর্থ বছরে ট্রেড লাইসেন্স খাতে রাজস্ব আয়ের জন্য দ্বিগুণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেসিসির প্রধান রাজস্ব অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আরিফ নাজমূল হাসান বলেন, গত আগস্ট মাস থেকে কেসিসির ট্রেড লাইসেন্স জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। ৩১টি ওয়ার্ডে ৩৩ জন ইন্সপেক্টর এ কাজ করছেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এ জরিপ কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু জরিপ সম্পন্ন করতে না পারার কারণে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডে জরিপ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বাকি ৩টি ওয়ার্ডের (৬, ২১ ও ২৩) জরিপ আগামী রবিবার শেষ হবে।

কেসিসির রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কেসিসিতে লাইসেন্সধারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১ হাজার। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আদায় হয় ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭ টাকা। আদায়ের হার ১০২.২২ ভাগ।

নতুন তফসিল অনুযায়ী বর্ধিত রেটে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স ইস্যুর কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ট্রেড লাইসেন্স শাখায় বার্ষিক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ কোটি টাকা।

খালিশপুর পাওয়ার হাউজ গেটের সজল স্টুডিও মালিক জয়নুল আবেদীন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য জরিপের লোক এসেছিল। তারা তার পরিচয় ও দোকানের ঠিকানা নিয়ে গেছে।

রয়েল মোড়ের ক্রেস্টের দোকান ক্রেস্ট কর্নারের মালিক শাহ আলম জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর তার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স জরিপ করে গেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের খুলনা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব লোকমান হাকিম বলেন, ‘কেসিসির এনালগ ট্রেড লাইসেন্স পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে প্রবেশ নিশ্চয় ভালো উদ্যোগ। তবে কোনোভাবেই যাতে ব্যবসায়ীরা হয়রানি না হয়, সে বিষয়টি কেসিসি কর্তৃপক্ষকে সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ট্রেড লাইসেন্স জরিপের (শুমারি) জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করার মাধ্যমে জরিপকারীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। পরে এ তথ্য কম্পিউটারে সংযোজন করা হবে। তিন জন কম্পিউটারম্যান ডাটা এন্ট্রি কাজ করছেন। জরিপ ও ডাটা এন্ট্রি কাজ শেষে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে তথ্য যাচাই বাচাইয়ের কাজ। স্থায়ী কাঠামোর মধ্যে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ জরিপের আওতায় আসছে। তবে ফুটপাতের হকার, চা পান বিক্রেতা জরিপের আওতায় আসবে না। প্রত্যেক কাউন্সিলরকে সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের জন্য একটি খসড়া তালিকা দেওয়া হবে। ওই খসড়া তালিকায় কাউন্সিলরদের অনুমোদন পেলেই মূল কাজ শুরু করা হবে। ট্রেড লাইসেন্স বই পরিবর্তন হবে আগামী বছরের শুরু থেকে। জাল রোধ করার জন্য ক্যালেন্ডার বছর থেকে ট্রেড লাইসেন্স হিসেব শুরু হবে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ইতোমধ্যে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স বই ছাপানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নতুন করে লাইসেন্স বই করার জন্য দামি কাগজের ১০টি নমুনা কপি সংগ্রহ করা হয়েছে। ফ্রান্সের কাগজের নমুনা কপি ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। সিল নকল রোধে ব্যবহার করা হবে এ্যাম্বুশ সিল। যা চোখে দেখা যাবে না, তবে হাতের স্পর্শে বোঝা যাবে। ২০১৭ সাল থেকে নতুন বইয়ে ট্রেড লাইসেন্স করা হবে। এছাড়া থাকবে গোপন কোর্ড নম্বর। যা মেয়র আর প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) জানবেন।

বাংলার পাশাপাশি ইংলিশ ভার্শনেও লাইসেন্স দেওয়া হবে। শুরুতে ৫ হাজার বড় ব্যবসায়ীকে প্লাস্টিক কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ কার্ড দেওয়ার পর ইতিবাচক সাড়া পেলে বাকি ট্রেড লাইসেন্সধারীদেরকে প্লাস্টিক কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ কার্ডের ভেতর থাকা চিপ স্কানিং করলেই ট্রেড লাইসেন্সধারীর সব তথ্য পাওয়া যাবে। কেসিসি খুলনা চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের পর বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে।

এছাড়া ছবিযুক্ত কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার সংখ্যা হবে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ হাজার। এমনকি ছবি যুক্ত ট্রেড লাইসেন্স কার্ডধারীরা চাইলে একবার এসে পাঁচ বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন- 


সেলফি'র জন্য কোহেলী কুদ্দুসের দুঃখপ্রকাশ

/এফএস/