সাতক্ষীরায় সন্ধান মেলেনি জেএমবির অর্থদাতা আব্দুর রহমানের বাড়ির!

নিহত জেএমবির অর্থদাতা আব্দুর রহমানের বাড়ি সাতক্ষীরা কুশখালীতে বলে জানিয়েছিল র‌্যাব। তবে সাতক্ষীরা পুলিশ বলছে, এই নামে কুশখালীতে কাউকে পাওয়া যায়নি।

শনিবার রাতে আশুলিয়ায় অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে পাঁচ তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে আহত হয় আব্দুর রহমান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এরপর র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক খন্দকার লুৎফুল কবির সাভারে সংবাদ জানান, আব্দুর রহমানের বাবার নাম আব্দুল্লাহ। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার কুশখালীতে। ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে সে আশুলিয়ার বাসায় উঠেছিল। তার স্ত্রীর নাম রুবি। সেও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত।

নিহতের নাম, ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সাতক্ষীরা পুলিশ তৃণমূল পর্যায়ে তদন্ত শুরু করে। শনিবার রাতভর পুলিশ সাতক্ষীরার সীমান্ত গ্র্রাম কুশখালীতে গিয়ে বাড়ি বাড়ি খোঁজ নেয়। কিন্তু ওই এলাকায় এই নামে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই  দেলোয়ার হোসেন জানান, কুশখালীর ভ্যানচালক আবদুল্লাহর ছেলের নাম  রাকিবুল ইসলাম (২৪)। আব্দুর রহমান নামে তার কোনও ছেলে নেই। নিজ গ্রামের মক্তবে লেখাপড়া করে ভ্যান চালাতো রাকিবুল। বিএনপি সমর্থক পরিবারটির সদস্য রাকিবুল হেফাজতে ইসলামে যোগ দেয়। তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর একাধিক নাশকতার মামলা হয়। এরপর থেকে সে পলাতক। বাড়ির সঙ্গে তার যোগাযোগ কম।

এসআই  আরও জানান, নিহত জঙ্গি আব্দুর রহমানের ছবি নিয়ে কুশখালী ইউনিয়নের কয়েক গ্রাম চষে বেড়িয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা। কিন্তু ছবির লোকটি তাদের এলাকার নয় বলেও গ্রামবাসী নিশ্চিত করেছেন।

একই তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. ইউসুফ আলম। তারা নিশ্চিত করেছেন তাদের এলাকায় আবদুল্লাহ নামের যে দুজন  লোক রয়েছেন তাদের কারও ছেলের নাম আব্দুর রহমান নয়।

এদিকে, কুশখালীর রাকিবুলের বাবা আবদুল্লাহ জানান, তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক। তিনি ভারতীয় গরু রাখালও। তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম চট্টগ্রামে একটি লবন কারখানায় চাকরি করে।

এদিকে, কুশখালী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল বলেন, ‘নিহত নব্য জেএমবির মূল অর্থদাতা আব্দুর রহমানের বাড়ি সাতক্ষীরায় এই খবর শুনেছি। তবে এই নামে কাউকে খুঁজে পাইনি। রাকিবুল নামে একজনের পরিচয় জানা গেছে তার বাবার নাম আব্দুল্লাহ। এ ঘটনা শোনার পর রাকিবুলের সঙ্গে তার পরিবার মোবাইলে যোগাযোগ করলে সে (রাকিবুল) বলেছে সে চট্টগ্রামে আছে।’

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্যা বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ওই এলাকায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেও আব্দুল্লাহ ছেলে আব্দুর রহমান নামে কারো সন্ধান পায়নি। রাকিবুল নামে একজনের পরিচয় জানা গেছে যার বাবার নাম আব্দুল্লাহ। সে ২০১৩ সালের পর থেকে পলাতক রয়েছে। তার পরিবার জানিয়েছে সে বেঁচে আছে এবং চট্টগ্রামে থাকে। তবে এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় পুলিশের পক্ষ জিডি করা হয়েছে।

এদিকে, রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কুশখালী এলাকায় মো. আবদুল্লাহের ছেলে আব্দুর রহমান নামে কোনও জঙ্গির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি ঢাকায় নিহত ওই ব্যক্তির ছবিও এ এলাকার কেউ শনাক্ত করতে পারেনি।

 

আরও পড়ুন:


আশুলিয়াতেও চলছে জঙ্গিবিরোধী অভিযান

 

/বিটি/