ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ধারণা করছিল পোড়াহাটির আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়া আবদুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবনগর এলাকার জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন ঈগল হান্টে’ নিহত হয়। তবে এখন তার স্বজনরা দাবি করছে মহেশপুরে আত্মঘাতী জঙ্গিই সেই আবদুল্লাহ।
মনিরুল আরও জানান, পুলিশ রবিবার মহেশপুরের ওই আস্তানাটি ঘেরাও করতে গেলে আবদুল্লাহই এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জাপটে ধরার চেষ্টা করে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা তাকে লাথি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। পরে ঘরের ভেতর আবদুল্লাহ আত্মঘাতী হয়।
এদিকে আবদুল্লাহর মা সন্ধ্যা রানী বিশ্বাস, তার ছেলে বিপুল কুমার বিশ্বাস (আবদুল্লাহর ভাই) এবং ধর্মন্তরিত হওয়ার আগে তার প্রথম স্ত্রী কণিকা রানী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, লাশ দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছেন নিহত ব্যক্তি তাদের প্রভাব, যে পরে ধর্মান্তরিত হয়ে আবদুল্লাহ হয়।
সন্ধ্যা রানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তার ছেলের লাশ তারা নেবেন না। কারণ সে ধর্ম পরিবর্তন করেছে।
তারা আরও জানান, মহেশপুরে নিহত তুহিন ছিল আবদুল্লাহর সহযোগী। তার বাড়ি পোড়াহাটির পাশে চুয়াডাঙ্গা গ্রামে।
উল্লেখ্য, রবিবার মহেশপুর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের বজরাপুর এলাকায় ‘অপারেশন সাটল স্প্লিট’ চালানো হয়। অভিযান শেষ হওয়ার পর পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সেখানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। তার মধ্যে একজনের নাম তুহিন। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। আর আরেক আত্মঘাতী জঙ্গির পরিচয় তখন জানা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আবদুল্লাহর বাড়িটি ঘিরে রাখে। পরদিন সেখানে অপারেশন ‘সাউথ প’ (দক্ষিণে থাবা) শুরু হয়। অপারেশন চলাকালে ওই বাড়ি থেকে বিস্ফোরক তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
পরে গত ২৭ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর এলাকার জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন ঈগল হান্ট চলার সময় চার জঙ্গি আত্মঘাতী হয়। পুলিশ ধারণা করছিল নিহতদের মধ্যে আবদুল্লাহও ছিল।
/এনএল/এফএস/
আরও পড়ুন-