তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ইজিবাইক চালক খোকনকে হত্যা করে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনতাই হওয়া মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। তার তদন্তকালীন সময়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে তিনি শনাক্ত করেন। এদের মধ্যে ৩ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। সে সময় ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন সাভার থেকে উদ্ধার করা হয়।
যাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, ঝিনাইদহ সদর থানার মাধবপুর উত্তরপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে হানিফ (২২), একই উপজেলার মাধবপুর গোহাটা পাড়ার হাফিজুর রহমান (২৭), ঢাকা ধামরাইয়ের দক্ষিণপাড়ার অর্পন মজুমদারের ছেলে শ্রীকান্ত মজুমদার (৩১) ও ধামরাইয়ের ছোট চন্দাইল গ্রামের সোহেল (২৩)।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বেজপাড়া গ্রামের দাস পাড়ার মৃত শ্যামপদ দাসের ছেলে খোকন দাস গত বছরের ২০ জুন নিখোঁজ হয়। ঘটনার পাঁচদিন পর কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের আলতাফ হোসেনের মোল্লাকোয়া গ্রামের আখক্ষেতের মধ্যে খোকন দাসের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার খোকন দাসের ভাই রিপন দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গত বছরের ২৬ জুন তারিখে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা তার তদন্তকালীন সময়ে ঢাকা ধামরাই থেকে অর্পন মজুমদারকে গ্রেফতার করেন ও তার কাছ থেকে খোকন দাসের ব্যবহৃত ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে অর্পনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একই এলাকার ছোট চন্দাইল গ্রাম থেকে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার হয়।
এ দুজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে গ্রেফতার করা হয় ঝিনাইদহ সদর উপজলার মাধবপুর গ্রামের হানিফ ও হাফিজুর রহমানকে। এসব আসামিদের মধ্যে শ্রীকান্ত, সোহেল ও হানিফ ঘটনার সঙ্গে জাড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই নিরব হোসেন জানান, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে দায়ের হওয়া মামলাগুলি শনাক্ত করে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়ার ইজিবাইক ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মামলায় কাউকে জড়ানো হয়নি। বর্তমানে আসামিদের মধ্যে হানিফ বাদে অন্য তিনজন জামিনে রয়েছে।
/এআর/