যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ-একনেকের সভায় যশোর-বেনাপোল জাতীয় সড়কের (যশোরের দড়াটানা-বেনাপোল পর্যন্ত) প্রায় সাড়ে ৩৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেন করার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
প্রকল্পের সেই নকশা অনুযায়ী রাস্তার দু’ধারের গাছগুলো কেটে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যশোরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরোধিতার মুখে শতবর্ষী ঐতিহাসিক ওই গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সওজ।
সওজ যশোরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সুরুজ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের কাজের টেন্ডার সেপ্টেম্বর মাসে সম্পন্ন হয়েছে। এখনও টেন্ডারটি রিসিভ হয়নি। খুব শিগগির তা রিসিভ ও অনুমোদন হয়ে যাবে।’
সেক্ষেত্রে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ কাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক দিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল থেকে হাজার হাজার টন মালামাল পরিবহন করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এটি বর্তমানে জরাজীর্ণ। সে কারণে এটি পুনঃনির্মাণের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ৭ দশমিক ৩ মিটার মূল পেভমেন্ট এবং দু’পাশে দেড় মিটার করে হার্ড শোল্ডার রেখে মহাসড়কটি সংস্কারের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের উভয় পাশের প্রায় ২৭০০ গাছ কাটার কথা ছিল। কিন্তু গাছগুলো রেখে রাস্তার উভয় পাশে দেড় মিটার করে প্রশস্ত করে তা সংস্কার করা দুরূহ। কেননা বেশ কিছু গাছ রয়েছে রাস্তার ধার ঘেঁষেই। সেক্ষেত্রে কোথাও দেড় মিটার প্রশস্ত করা গেলেও অনেক স্থানে তা সম্ভব হবে না বলে জানান প্রকৌশলী মো. সুরুজ মিয়া।
প্রসঙ্গত, ১৮৪০ সালে জমিদার কালি পোদ্দার বাবু তার মায়ের গঙ্গা স্নানের জন্য যশোর থেকে কলকাতা পর্যন্ত নির্মাণ করেন এ সড়কটি। আর মায়ের নির্দেশ অনুযায়ী পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার দু’ধারে লাগান হাজার হাজার বট, অশত্থ, শিরিষ, মেহগনি গাছ। তাছাড়া ১৯৭১ সালে হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশু শরণার্থী হয়েছিলেন এই সড়ক দিয়েই। মিত্রবাহিনীও এসেছিল এই সুশীতল রাস্তা দিয়েই। সেকারণে চলতি বছরের জুন মাসে যশোরের রাজনীতিক, কবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা গাছগুলো রেখে তা সংস্কারের দাবি জানান।
আরও পড়ুন:
তথ্য ঠেঙ্গারচরের, পুনর্বাসন ভাসানচরে!