তাছাড়া কোস্টগার্ডের তিনটি ইনসুল পেট্রোল ভ্যাসেল, ছয়টি হাইস্পিড বোর্ড ও ক্রেইন বোর্ড, নেভির জন্য দুটি সার্ভে ভ্যাসেল এবং পায়রা বন্দরের জন্য দুটি পাইলট ভ্যাসেল আছে। এছাড়া নেভি, কোস্টগার্ড ও বডার গার্ডে বিভিন্ন জাহাজও মেরামত করা হয়।
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এল) কমোডোর আনিসুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আগে আমরা পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করেছি। এবার আরেকটু বড় যুদ্ধজাহাজ তৈরি হয়েছে। এভাবে তৈরি হতে থাকলে ও ধারাবাহিকতা থাকলে আমাদের দক্ষ জনবল গড়ে উঠবে। তাহলেই ভবিষ্যতে বিদেশেরও জাহাজ নির্মাণের কাজও পাবে খুলনা শিপইয়ার্ড।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বরগুনার তালতলিতে ১৬২ একর জমির ওপর বড় ধরনের শিপইয়ার্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আনিসুর রহমান মোল্লা জানান, এই জমি ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পথে। সেখানে বড় বড় জাহাজ বা বাণিজ্যিক জাহাজ ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বরগুনা তালতলিতে ১৬২ একর জমির বিষয়ে ইতোমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ডের। এখন বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে কাগজপত্র জমা রয়েছে। এছাড়া ওই জমি কেনার জন্য তহবিলও এসেছে। জায়গাটি কিনতে লাগবে ২২-২৩ কোটি।
১৯৫৭ সালের ২৩ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে খুলনা শিপইয়ার্ড। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন জার্মান ও ব্রিটিশ প্রযুক্তিবিদরা। ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ইপিআইডিসি) দায়িত্ব নেয়। দেশ স্বাধীনের পর খুলনা শিপইয়ার্ডের অভিভাবকত্ব পায় বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিআইডিসি)।
১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হস্তান্তর করেন নৌবাহিনীর কাছে। তখন প্রতিষ্ঠানটির দেনা ছিল ৯৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সেই দায় মিটিয়ে এখন প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছরই লাভ করছে। পাশাপাশি সেরা করদাতা তালিকায়ও স্থান পাচ্ছে।