সিডিফোর মেশিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রি-এজেন্ট না থাকায় এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘আগে খুলনায় মুক্ত আকাশ বিনামূল্যে এইচআইভি/এইডস পরীক্ষা করতো। এখন তারা সহযোগিতা করছে। কাজটি গত অক্টোবর থেকে সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের (এমটি) ইনচার্জ মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘২০১০ সালে জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে একটি সিডিফোর কাউন্টিং মেশিন দেওয়া হয়। ৫ বছর পর ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ ৫০টি রি-এজেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ৫০ জন এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ণয় করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ৩১ মে রি-এজেন্ট শেষ হয়ে যায়। এরপর আর টেস্ট করানো সম্ভব হয়নি। এখন মেশিনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।’
খুলনা জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতে এইচআইভি/এইডস পজেটিভ সংখ্যা বেশি। এ কারণে খুলনা অঞ্চলেও এইচআইভি পজেটিভ সংখ্যা বাড়ছে।’
বেসরকারি সংস্থা মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৪০ জনের রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। এতে ১২ জন মহিলা ও ১২ জন পুরুষের শরীরে এইচআইভি/এইডস পজিটিভ শনাক্ত হয়। যার মধ্যে ছেলে শিশু রয়েছে ৩ জন। যাদের বয়স ১৮ মাস থেকে ৪ বছরের মধ্যে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অঞ্চলের যৌনকর্মীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো হয় না। আবার এদের ২৫ শতাংশের বেশি কনডম ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখায় না। তাছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ট্রাক চালকদের রক্ত পরীক্ষারও কোনও ব্যবস্থা নেই।
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ’র কো-অর্ডিনেটর রেহানা বেগম বলেন, ‘এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিরা পদে পদে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিবেশীরাও তাদের বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেন।’
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ খুলনা শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত এইচআইভি/এইডস পজিটিভদের বিনামূল্য চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি কাউন্সিলিং করানো হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে এআরভি ওষুধ দেওয়া হয়। পজিটিভি ১৯৩ জনের মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ, ৭৩ জন মহিলা, ১ জন হিজড়া ও ২৯ জন শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে ছেলে শিশু ১৮ ও মেয়ে শিশু ১১ জন। শিশু পজিটিভদের বয়স ২২ মাস, ২ বছর ও ৪ বছর। মা গর্ভবতী থাকা অবস্থায় এ শিশুরা পজিটিভ হয়েছে। আক্রান্ত বয়স্কদের অধিকাংশই ভারত ফেরত এবং নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটি এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘সচেতনতার অভাবে এইচআইভি/এইডস পজিটিভ ব্যক্তিরা নানা কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এ কারণে পজিটিভ হওয়ার আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তিরা রক্ত পরীক্ষা করতে আসছেন না। এ জন্যই এখন এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকার ইউনিসেফের অর্থায়নে গর্বভতী মায়ের আলাদা রক্ত পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। পজিটিভদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি ডেলিভারি হওয়া পর্যন্ত সেবার আওতায় আনা হবে।’