সুন্দরবনের ১৭ বর্গ কিলোমিটার পাহারায় তিন বনরক্ষী!

সুন্দরবন পাহারায় বনরক্ষীরামাত্র তিন জন বনরক্ষী মিলে পাহারা দিচ্ছেন সুন্দরবনের ১৭ বর্গ কিলোমিটার অংশ। তাও আবার লাঠি নির্ভর। প্রহরীদের হাতে থাকে না কোনও অস্ত্র। বনবিভাগের পোশাক আর লাঠিই তাদের সম্বল। বনের মধ্যে বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনও খবর পেলে লাঠি হাতে তারা ছুটে যান।

এটা পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের অধীন গুলিশাখালী টহল ফাঁড়ির দৃশ্য। দাফতরিক প্রয়োজনে স্টেশন কর্মকর্তা বাইরে থাকলে মাত্র দু’জন বনরক্ষী অবস্থান করেন ফাঁড়িটিতে।  দীর্ঘদিন ধরে এখানে জনবল সংকট রয়েছে। 

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) গুলিশাখালী ফাঁড়ি স্টেশন কর্মকর্তা (এসও ) মো. মনিরুল হক ও সহকারী ফরেস্টার মো. কালু মিয়ার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, এই ফাঁড়ির আওতায় ১৭ বর্গ কিলোমিটার সুন্দরবন। এই এলাকায় তিনটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। এ ছাড়াও শতশত হরিণ, বানর, শুকরসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণীর বসবাস।

এসব হিংস্র ও প্রাণঘাতি পশুদের কিভাবে মোকাবিলা করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে এই দুই কর্মকর্তা বলেন, স্টেশনের কাছেই ৬/৭ জন ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্য আছেন। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে বনে প্রবেশ করি।

এই ভিটিআরটি সদস্যদের বিষয়ে বনবিভাগ বা সরকারের কতটুকু দায়-দায়িত্ব রয়েছে জানতে চাইলে সহকারী ফরেস্টার মো. কালু মিয়া বলেন, ‘না না। কারও কোনোই দায় নেই। ওনারা স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কোনও পারিশ্রমিকও তাদের জন্য নেই।’

এ বিষয়ে গুলিশাখালী গ্রামের ভিটিআরটি সদস্য আব্দুল বারেক হাওলাদার (৫০) বলেন, ‘ভরাট হয়ে যাওয়া ভোলা নদীর ওপর আমাদের বসবাস। বনের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বনরক্ষীদের ডাকে সন্তান, সংসার ও জীবনের মায়া ত্যাগ করে লাঠি হাতে নিয়ে ছুটে যাই। বাঘ নিয়ন্ত্রণ করি। বাঘের আক্রমণ থেকে মানুষ ও গবাদি পশু বাঁচানোর চেষ্টা করি।’

তিনি জানান, গত ২৩ জানুয়ারি লোকালয়ে ঢুকে পড়া বাঘের আক্রমণ থেকে একজনকে বাঁচাতে গিয়ে ভিটিআরটি সদস্য মজিবর রহমান গুরুতর জখম হয়েছেন। কিন্তু টাকার অভাবে তার চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না।

গুলিশাখালী টহল ফাঁড়ির এই জনবল সংকট সম্পর্কে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গোটা বনবিভাগে জনবল সংকট রয়েছে। তাছাড়া এখন পর্যটক মৌসুম হওয়ায় টুরিস্ট স্পটগুলোয় জনবল বেশি রাখা হয়েছে। তবে খুব শিগগিরই ওই ফাঁড়িতে জনবল বাড়ানো হবে।’