মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মাহবুব আল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহত আসক কর্মী শামছুন্নাহার জানান, মাগুরা শহরের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম রিপুর স্ত্রী ফারজানা আক্তার রানী স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে এসে ঢাকায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের শেল্টার হোমে আশ্রয় নেন। পালিয়ে আসার পর স্বামী রিপু মাগুরা সদর থানায় স্ত্রী ফারজানার বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেন। এই মামলার আসামি হিসেবে মাগুরা সদর থানা পুলিশ মঙ্গলবার (৬ মার্চ) ফারজানাকে নিজস্ব হেফাজতে ঢাকার শেল্টার হোম থেকে মাগুরায় নিয়ে আসেন। আসকের প্রতিনিধি ও জিম্মাদার হিসেবে তিনি নিজেও ফারজানার সঙ্গে মাগুরা আসেন। বুধবার দুপুরে ফারজানা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে ফারজানার ইচ্ছানুযায়ী আদালত ফারজানাকে আসকের জিম্মায় জামিন দেন।
জামিন পাওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে তারা বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনাল থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। মাগুরা সদরের লক্ষ্মীকন্দর এলাকায় পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস ব্যারিকেড দিয়ে বাসটিকে থামায়। এরপর রিপুর নেতৃত্বে ৪-৫ জন অস্ত্রধারী বাসের ভেতরে ঢুকে তাকে ও ফারজানাকে বেদম মারপিট করে টেনে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। পরে তাকে পিটিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে ফারজানাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শামসুন্নাহারকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ওসি মাহবুব আল হাসান জানান, আসকের প্রতিনিধিসহ অপহৃত ফারজানাকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল। তবে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।