কেসিসি নির্বাচন: প্রার্থী বাছাই নিয়ে সঙ্কটে আ.লীগ

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণা হলে এখনও খুলনায় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারেনি। নির্বাচনে অংশ নিতে সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সংশ্লিষ্টদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন। খুলনা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তালুকদার খালেকের বিকল্প এবং সময়োপযোগী প্রার্থী বাছাইয়ের সঙ্কটে রয়েছে।

তালুকদার আব্দুল খালেক, সাইফুল ইসলাম ও সরদার আনিসুর রহমান পপলুকেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক পেতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাঁপ চলছে। নগরপিতার চেয়ার পুনরুদ্ধারে তৎপর আওয়ামী লীগ। তাই সম্ভাব্য প্রাথীরা মাঠেও নেমে পড়েছেন। নগর জুড়ে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার দিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন আগ্রহী নেতারা। এর মধ্যে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছেন- সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান পপলু, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস ও দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিজেএ চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী।

সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেকের নাম স্থানীয় আওয়ামী অনুসারীদের কাছে অন্যতম পছন্দ হলেও তিনি নির্বাচন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে সময়োপযোগী প্রার্থী পেতে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত তৃণমূল। 

আরও পড়ুন: কেসিসি নির্বাচন: অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকলেও আশাবাদী বিএনপি

কেসিসি নির্বাচনের পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী হিসাবে অনেকেই দলের কাছে মনোনয়ন চাইতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সংসদ নির্বাচনের আগেই মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে। তাই কারও বিরোধিতা করার সুযোগ থাকবে না।’

তালুকদার আব্দুল খালেক আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে আমাকে প্রার্থী করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যেখানে নির্বাচন করে হেরেছি, সেখানে আর নির্বাচনে ফিরতে চাই না। জীবনের প্রথম হার হচ্ছে সিটি নির্বাচনে। কিন্তু রামপাল, মংলার মানুষ কখনও ভোটের হিসেবে প্রত্যাখান করেনি। তাই এখন রামপাল-মংলার মানুষের উন্নয়নে বাকি সময়টা কাজে লাগাতে চাই।’

খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে তিনি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইবেন। সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই তিনি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।’

আরও পড়ুন: কেসিসিতে আ.লীগ-বিএনপির মেয়র প্রার্থী একাধিক

খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সরদার আনিসুর রহমান পপলু জানান, তিনি মেয়র নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলীয় প্রধানের কাছে তিনি মনোনয়ন চাইবেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি (আনারস) ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮ ভোট। ওই নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন। এবারের নির্বাচনে ভোটার হয়েছে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৭৭ জন।