খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও সর্মথকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরজ করলেও তারা ‘বৃষ্টিবলয় নিহারিকা’ নিয়ে শঙ্কিত। আবহওয়া অফিস সূত্রে জানা যায় পূর্ণাঙ্গ ‘বৃষ্টিবলয় নিহারীকা’ ধেয়ে আসছে। পুর্ণাঙ্গ এ বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে সারাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। যা ২/১ দিনের মধ্যে শুরু হয়ে ১৮ মে পর্যন্ত অব্যহত থাকতে পারে। এরইমধ্যে কয়েক দফা বৃষ্টিসহ ‘বৃষ্টিবলয় ঝুমু’র এর প্রভাবে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা বিঘ্নিত হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের ঝোলানো পোস্টার নষ্ট হয়ে মাটিতে লুটোপুটি খেয়েছে। তারপর ও প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা ও কেন্দ্রভিত্তি পোস্টার ঝুলানোর কাজ। তবে বৃষ্টির কারণে নির্বাচনী পরিবেশ বিশেষ করে ভোটের দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনায় উদ্বেগ বিরাজ করছে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত খুলনা ও আশপাশের এলাকায় বজ্রাপাতসহ বৃষ্টি হয়েছে। ওই সময় ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির প্রভাবে সমগ্র খুলনায় ভ্যপসা গরম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবারও কয়েক পসলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যা শুরু হলে টানা এক সপ্তাহ থাকতে পারে।
বেসরকারি আবহাওয়া অফিস টোনা’র (বিডাব্লিউওটি) আবহাওয়াবিদ পারভেজ আহমেদ পলাশ জানান, ‘নিহারীকা’ নামের যে বৃষ্টিবলয়টি আসছে, তা দেশের সব স্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাবে। এর প্রভাবে সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টি হবে। এছাড়াও যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদাহ, সাতক্ষীরা, নড়াইল, খুলনা ও এর আশপাশের এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ি অঞ্চলে ধস নামতে পারে।
বেসরকারি আবহাওয়া তথ্য কেন্দ্র ‘টোনা নড়াইল’র তথ্যমতে, বৃষ্টিবলয় নিহারিকার প্রভাব আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে যা ১৮ মে পর্যন্ত থাকবে। দেশের সব স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাতের আগে কোনও কোনও স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।
গত কয়েক দিনের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কেসিসি নিবার্চনের প্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। তাদের লাগানো পোস্টারগুলো ছিড়ে পড়ছে। ফলে প্রার্থীদের বারবার পোস্টার লাগাতে হচ্ছে।
এব্যাপারে ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আজমল আহমেদ তপন জানান, বৃষ্টির জন্য প্রথম দিকে প্রচার প্রচারণায় সমস্যা হয়েছে। এখন অধিকাংশ প্রার্থী বৃষ্টি সহিষ্ণু পোস্টার তৈরি করছেন। বৃষ্টি হলে গরম ভাবটা সহনশীল পর্যায়ে আসবে। গণসংযোগ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভোটের দিন হালকা বৃষ্টি হলে সমস্যা নেই। ভারী ও দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে না পারলে সমস্যা হবে।
১৮ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম রাজুল হাসান রাজু জানান, বৃষ্টির কথা মাথায় রেখেই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রথম দফা বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রার্থীরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে করে লেমিনেটিং পোস্টার ব্যবহার করছেন। এর ফলে বৃষ্টি নিয়ে ভাবনা নেই। তবে, ঝড়ো হাওয়া হলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে গণসংযোগ বিঘ্নিত হয়। ওয়ার্ডের অনেক জায়গা এখনও কাঁচা সড়ক রয়েছে। ফলে বৃষ্টি হলে ওই এলাকায় প্রচারণা বিঘ্নিত হবে। জনগণকেও দুর্ভোগে পড়তে হয়। ভোটের দিন বৃষ্টি হলে ভোটাররা ঘর থেকে বের হতে না পারলে সমস্যা তো সৃষ্টি হবে? যা ভোটের হিসাব নিকাশকে পাল্টে দিতে পারে।
মহানগরীর টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলতাফ হোসেন জানান, বৃষ্টিতে পোস্টার ছিঁড়ে পড়ছে সড়কে। আর বাতাসে সে সব পোস্টারে ড্রেন ভরে যাচ্ছে। প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের গণসংযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় মঞ্জুর পক্ষে প্রচারণায় জামায়াত, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
খুলনা সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার খালেকের