বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইসরাত নাজনীন জানান, সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। এর আগেই তার মৃত্যু হয়।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ও বাঘারপাড়া থানার এসআই শাহ্ আলম জানান, সোমবার বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আসাদুল হত্যা মামলার আসামি তন্ময়কে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ইফতারের পর তন্ময়কে ডাকাডাকি করে না পেয়ে হাজতের টয়লেটে গোঙানো অবস্থায় উদ্ধার করে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় তার গলায় কম্বল পেঁচানো ছিল। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহ্ আলম আরও বলেন, ‘নিহত আসাদুলের লাশ উদ্ধারের আগে একটি নতুন মোবাইল সিমে একাধিকবার কথা বলেন তন্ময়। ওই সিমে আর কারও কলের তালিকা পাওয়া যায়নি। যে কারণে নিশ্চিত ফেঁসে যাবেন বলে তন্ময় আত্মহত্যা করেছেন।’
তন্ময় বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া এলাকার তনয় কুণ্ডুর ছেলে। আসাদুল হত্যা মামলায় তার মাও আসামি।
গত ৮ মে নারিকেলবাড়িয়ার পশ্চিমা মাদ্রাসার অফিস সহকারী অসাদুল (৫২) নিখোঁজ হন। নিখোঁজের দু’দিন পর ১১ মে নারিকেলবাড়িয়া শ্মশানঘাট এলাকা থেকে আসাদুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই মামলায় ২ নম্বর আসামি ছিলেন তন্ময় কুণ্ডু।
বাঘারপাড়া থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, থানা হাজতে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় তারা খুবই ব্যস্ত রয়েছেন। পরে কথা বলবেন। তিনি আরও জানান, যশোর থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন।
এদিকে, রিমান্ডে আনা হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সালাউদ্দিন শিকদার, দুই জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে সাত জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি নিহত আসাদুলের স্ত্রী লাকি বেগম বাঘারপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তন্ময়ের মা আল্পনা কুণ্ডু এক নম্বর আসামি। মামলার আসামি কল্পনা কুণ্ডু, ছেলে তন্ময়সহ চারজন আটক ছিল।