নড়াইলে পুত্রবধূকে রক্ষা করতে গিয়েই প্রাণ হারালেন শাশুড়ি?

খুলনানড়াইলের কালিয়ায় আঙ্গুরী বেগম (৫২) নামের এক নারী হত্যার শিকার হয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পুত্রবধূকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়েই তিনি হামলাকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে কালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ওই গ্রামের সবুর খান তার স্ত্রী আঙ্গুরী বেগম ও পুত্রবধূ তানজিলাকে বাড়িতে রেখে বারইপাড়া বাজারে যান। সকাল ৯টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে তিনি প্রথমে পুত্রবধূ তানজিলাকে বসত ঘরের বারান্দায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর অন্য ঘরে গিয়ে দেখেন, মেঝেতে তার স্ত্রী আঙ্গুরী বেগমের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তানজিলাকে চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠায় ও আঙ্গুরী বেগমের লাশ উদ্ধার করে।
জ্ঞান ফেরার পর নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তানজিলা বেগম (২০) পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ওইদিন সকাল ৮ টার দিকে কয়েকজন অপরিচিত লোক বাড়িতে গিয়ে তার শ্বশুর ও স্বামীর খোঁজ করে। বাড়িতে কোনও পুরুষ মানুষ নেই জানালে তারা নলকূপ মেরামতের যন্ত্রপাতি দিতে বলে। তানজিলা নলকূপ মেরামতের যন্ত্রপাতির ব্যাগ এগিয়ে দিতে গেলে আগন্তুকরা তাকে ও তার শ্বাশুড়ীকে ধরে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। হাত-পা বেঁধে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
পুলিশের ধারণা, তানজিলা জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর তাকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান শ্বাশুড়ী আঙ্গুরী বেগম। আর তখন দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে নিহতের স্বামী সবুর খান ওইদিন রাতেই কালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শমশের আলী বলেন,‘নিহতের পুত্রবধূ তানজিলার দেওয়া জবানবন্দির সুত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। বুধবার তানজিলার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’