৯ পাটকলে বকেয়া ৪৪ কোটি টাকা, ৪ দিনে উৎপাদন ক্ষতি ৩ কোটি টাকা

 

খুলনা

শ্রমিকদের আন্দোলন ও ধর্মঘটের কারণে গত  চারদিনে খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে পাটকলগুলোতে সোয়া ৩ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি  হয়েছে। অন্যদিকে এ ৯টি পাটকলের শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়ার পরিমাণ ৪৪ কোটি টাকা। সমস্যা সমাধানে পাটকল শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ ।

বকেয়া মজুরি ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৯টি জুট মিলের শ্রমিকরা  উৎপাদন বন্ধ রেখে ১ এপ্রিল থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘটের পাশাপাশি  সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। এ আন্দোলনের কারণে খালিশপুর, আটরা ও নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলের পাটকল শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৯টি জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারি ও কর্মকর্তাদের ৬৪টি সপ্তাহের বেতন ও মজুরি ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে ৩১ কোটি ১৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

সূত্রে জানা যায়, আলীম, কার্পেটিং, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের ৬ সপ্তাহ এবং ক্রিসেন্ট, ইস্টার্ন, প্লাটিনাম, স্টার ও জেজেআইতে ৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এ সব জুট মিলে স্থায়ী ১৪ হাজার ৫২৫ জন ও অস্থায়ী ১৮ হাজার ৫২২ জনসহ  (বদলি শ্রমিক)৩৩ হাজার ৪৭ জন শ্রমিক রয়েছে। 
বিজেএমসি’র খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৯টি জুট মিলে প্রতিদিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৭২ মেট্রিক টন। সেখানে পাট সঙ্ককট থাকায় উৎপাদন  হচ্ছে ১০০ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন। প্রতিদিনের এই ১০০ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্যের বাজার মূল্য ৮০ লাখ টাকা থেকে ৮৫ লাখ টাকা। এ হিসেবে ১ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ দিন শ্রমিক আন্দোলন ও ধর্মঘটে ৯ জুট মিলে সোয়া ৩ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।
সূত্র জানান,  ৯টি জুট মিলের মধ্যে আলীমে ৩ হাজার ১ কুইন্টাল, কার্পেটিংয়ে ২ হাজার ৬৩৫ কুইন্টাল, ক্রিসেন্টে ১২ হাজার ২২ কুইন্টাল, দৌলতপুরে ২ হাজার ৩৫৪ কুইন্টাল, ইস্টার্নে ১ হাজার ৭৩৪ কুইন্টাল, খালিশপুরে ১২ হাজার ১২২ কুইন্টাল, প্লাটিনামে ৭ হাজার ৭৯৩ কুইন্টাল, স্টারে ২ হাজার ৩৮১ কুইন্টাল ও জেজেআইতে ৬ হাজার ১৫৯ কুইন্টাল কাঁচা পাট মজুদ রয়েছে। এই জুট মিলগুলোতে গত বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত পাটক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৬ কুইন্টাল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এই জুট মিলগুলোতে ২০০ কুইন্টাল কাঁচাপাট আমদানি করা হয়। অপরদিকে মিলগুলোতে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন হেসিয়ান, সেকিং, সিবিসি ও ইয়ার্ন পাটজাতপণ্য মজুদ রয়েছে। 
বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকে ১ এপ্রিল থেকে আন্দোলন চলছে। খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন ও আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দদোলন করছেন।  

শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকরা ৭ থেকে ৯ সপ্তাহের মজুরি না পাওয়ায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও ঘর ভাড়াও দিতে পারছে না।
বিজেএমসি’র খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ কর্মকর্তা শঙ্করচন্দ্র ভুঁইয়া বলেন, শ্রমিকদের ৯ দফা দাবির অন্যতম মজুরি কমিশন ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বাকি দাবিগুলোর বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।