পাটকল শ্রমিকদের ৮ম দিনের মতো কর্মবিরতি চলছে

শ্রমিকদের কাজে যোগদান প্রসঙ্গে ক্রিসেন্ট জুট মিল কর্তৃপক্ষ দেওয়া চিঠি

বকেয়া মজুরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় খুলনা ও যশোরের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলের শ্রমিকরা অনির্দৃষ্টকালের কর্ম বিরতিতে সোমবার ৮ম দিনের কর্মসূচি পালন করছে। তারা বিকাল ৪টায় আবারও রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে।

সোমবার ভোর ৬টায় পাটকল শ্রমিকরা স্ব স্ব কর্মস্থলে না গিয়ে অষ্টম দিনে মতো আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। সকাল ১০টার দিকে খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিল প্রশাসনিক ভবনের সামনে শ্রমিকরা সমবেত হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিআইডিসি সড়কে আসে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।

পাটকল শ্রমিকলীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন,‘সোমবার থেকে সারাদেশের পাটকলে একযোগে আন্দোলন শুরু হয়েছে। বকেয়া মজুরি ও বেতন না দেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। অনাহারী শ্রমিকরা রুটি রুজি নিশ্চিত না করে রাজপথ ছাড়ছে না।’

ক্রিসেন্ট সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো.সোহরাব হোসেন বলেন,‘খুলনা থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক আন্দোলন সোমবার থেকে দেশব্যাপী দাবানল ছড়াতে শুরু করেছে। যা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যহত থাকবে।’

শ্রমিক নেতা মুরাদ হোসেন জানান, শ্রমিকরা বকেয়া না পাওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’

দৌলতপুর জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ মুরাদ হোসেন বলেন, আমাদের পাটকলগুলোতে উৎপাদিত ওাটজাত পণ্য আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন। এ নিয়ে কারও কোন ধরনের সন্দেহ নাই। এ পণ্য রফতানি না হওয়ার কারণ হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় মার্কেট সুদানে আন্তরীন অস্থিরতা। এ কারণে তারা পাটপণ্য নিতে পারছে। জটিলতা কেটে গেলে পাটপণ্য বিক্রি হয়ে যাবে। আর এন্টি ডাম্পিং কর আরোপের কারণে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত  হওয়ায় আমরা ভারতে পাটজাত পণ্য বিক্রি করতে পরছি না। 
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল সিবিএ নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক প্লাটিনাম জুট মিল সিবিএ সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, ‘পাটজাত পণ্যের ওপর ভারত সরকার এন্ট্রি ডাম্পিং কর আরোপ করার ফলে ভারতে আমরা পাটজাত পণ্য বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ কারণে ভারতে পাটজাত পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে না। যার প্রভাব মিল ও শ্রমিকদের ওপর পড়েছে। তিনি দেশে পাটজাত পণ্যর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০১০ সালের ম্যান্ডেটরি আইন কার্যকর করার দাবি জানান। পাশাপাশি দূতাবাসগুলোতে পৃথকভাবে সেল খোলার মাধ্যমে পাটজাত পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।’  
উল্লেখ্য, পাটখাত প্রয়াজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশাধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পূর্নবহাল, সব মিল সটআপের অনুকূল শ্রমিক-কর্মচারীদের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা ১৩ মার্চ থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

গত ৭ এপ্রিল বিজেএমসি থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া মজুরি ও বেতন দেওয়াসহ ১৮ মে’র মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর শ্রমিকরা অবরোধ ও কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে যোগ দেয়। ২৫ এপ্রিল শ্রম প্রতিমন্ত্রী এসে এক সপ্তাহ সময় নেন। এরপর ২ মে মজুরি না দেওয়ায় ৫ মে থেকে আবার উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে। ঢাকার শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী ১৩ মে থেকে সারাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলে একযোগে এ কর্মসূচি  শুরু হচ্ছে।