খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পে দুর্নীতি: ৩ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত




খুলনা-মোংলা নির্মাণাধীন রেললাইন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সমায়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখার অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা নিত্য গোপাল ও কানুনগো সুব্রত সরদার এবং তৎকালীন সার্ভেয়ার বর্তমানে রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত সার্ভেয়ার কামাল হোসেন।

গত ২০ মে এই তিন কর্মকর্তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমান সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। বরখাস্ত আদেশের ঠিক এক মাস পর বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাতে চিঠির কপি সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছায়।

তবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কোনও কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, খুলনা-মোংলা নির্মাণাধীন রেললাইন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে ওই তিন কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া, অধিগ্রহণের আওতাভূক্ত নয় এমন ভূমি এবং ভুয়া ভূমি মালিক সাজিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, একই দাগের ভূমির ক্ষতিপূরণ একাধিকবার দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা এই প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, এতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি-১২ অনুযায়ী এই তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে সরকার খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। খুলনা-মোংলা নির্মাণাধীন রেললাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এরমধ্যে রেললাইনে ব্যয় হবে এক হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ব্রিজের জন্য এক হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও জমি অধিগ্রহণে এক হাজার আট কোটি টাকা।