বাঘ বাড়াতে আবাসস্থল সুরক্ষা ও জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত২৯ জুলাই (সোমবার), আজ বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষে এবারও নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। তবে এই কর্মসূচি পালিত হবে ৩১ জুলাই। খুলনা ও বাগেরহাটের সব আয়োজনই হবে মোংলাতে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

৩ বছর পর, ২০২২ সালে, আবারও ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা শুরু হবে। এর আগে বাঘের আবাসস্থল সুরক্ষা ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ৩ বছরের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ন্যাশনাল টাইগার অ্যাকশন প্লানের অংশ হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে।

সুন্দরবন বিভাগের পশ্চিম বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল মামুন বলেন, ‘এখন বাঘ রক্ষায় বাঘের আবাসস্থল সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ চলছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাঘের রোগ নির্ণয়সহ বাঘের চরিত্র বোঝার বিষয়ের ব্যাপারেও কাজ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল টাইগার অ্যাকশন প্লান তৈরির কাজ চলছে। প্লান আসার আগেই তা বাস্তবায়নকে সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে এই কার্যক্রম ২০১৮ সাল থেকে শুরু করা হয়েছে। ৩ বছরের এই কার্যক্রমের ফলাফলের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

সুন্দরবন বিভাগের পূর্ব বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আবার ৩ বছর পর আগামী ২০২২ সালে বাঘ গণনার কাজ করা হবে। সে সময়ের মধ্যে বাঘের আচরণ বোঝা ও আবাসস্থল সুরক্ষায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্মার্ট পেট্রোল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ২ বিভাগ মিলিয়ে ৪টি করে ৮টি স্মার্ট পেট্রোল ব্যবস্থা রয়েছে। জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের নদী ও খালে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ ফুটের কম প্রস্থের খালে সারা বছরই মৎস্য আহরণ করা হয়েছে।’

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে বুবার্ট হেনড্রিকস সুন্দরবনে ৩৫০টি বাঘ থাকার তথ্য দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৮২ সালে মার্গারেট স্যালটার নমুনা ও সরেজমিন জরিপ চালিয়ে ৪২৫টি বাঘ থকার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। এর দুই বছর পর রেক্স জিটিন্স সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। সুন্দরবন এলাকায় কাজ করেন এমন লোকজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য দিয়েছিল বন বিভাগ। পরের বছর সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘের ব্যাপারে তথ্য দিয়েছিলেন।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের গবেষণায় সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৪৪০টি। ২০১৫ সালে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা করা হয়। এতে ১০৬টি বাঘের অস্তিত পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে দেখা যায়, সুন্দরবনের ১১৪টি বাঘের অস্তিত্ব আছে।

বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, সুন্দরবনে যে অঞ্চলগুলোতে বাঘের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি এমন ১,৬৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় ১,২০৮ বর্গকিলোমিটার, খুলনায় ১৬৫ বর্গকিলোমিটার ও বাগেরহাটের শরণখোলায় ২৮৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব এলাকার জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি পেট্টোল গ্রুপ গড়ে তোলা হচ্ছে। সুন্দরবনে অভয়ারণ্যের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমও গঠনের কাজ চলছে।