খুলনায় ভুল চিকিৎসায় সাবেক ক্রিকেটারের মৃত্যুর অভিযোগ

ক্লিনিক থেকে দেওয়া রিপন সরদারের ডেথ সার্টিফিকেটখুলনায় সাবেক ক্রিকেটার (অনূর্ধ্ব ১৯) রিপন সরদার (৩০) ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে মহানগরীর খালিশপুর ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তিনি মারা যান। এ ঘটনার জেরে রিপনের স্বজনদের হামলার শিকার হয়েছেন ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক সুজাউদ্দিন। আহতাবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রিপন সরদার খুলনা সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল ডিপার্টমেন্টের সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।

রিপনের বাবা নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত হোসেন বলেন, ‘গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেওয়ায় রিপনকে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে একটার দিকে খালিশপুর ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রথমেই তাকে একটি স্যালাইন দেন, যা ১৫ মিনিটে শেষ করা হয়। স্যালাইনটি দ্রুত দেওয়ার কারণে রিপনের গ্যাসের সমস্যা আরও  বেড়ে যায়। এ অবস্থায় ওই ডাক্তার রিপনকে একটি ইনজেকশন দেন। এতে তার হার্ট ব্লক হয়ে যায়। ফলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় রিপনকে সেখান থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

খালিশপুর ক্লিনিকের ম্যানেজার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘রাতে অসুস্থ অবস্থায় রোগীকে এখানে আনার পর চিকিৎসক সুজাউদ্দিন তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা তা  না করে এখানেই চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। রোগীকে যে ধরনের সেবা দেওয়া দরকার ছিল, ডাক্তার তাকে সেই সেবাই দিয়েছেন। রিপন মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা চিকিৎসক সুজাউদ্দিনকে সঙ্গে করে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন, আর তাকে মারধর করেছেন। মারধরের কারণে ডাক্তার সুজাউদ্দিন এখন কানে শুনতে পাচ্ছেন না। তার পায়েও সমস্যা হয়েছে। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাবিরুল আলম বলেন, ‘অসুস্থ রিপনকে রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার দিকে খালিশপুর ক্লিনিক থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। এরপর রোগীর স্বজনরা সঙ্গে থাকা খালিশপুর ক্লিনিকের চিকিৎসক সুজাউদ্দিনকে মারধর করেন। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ডা.সুজাউদ্দিনকে খুমেক হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।