বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ড্রেনের উন্নয়ন কাজের সময় বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোর স্থানে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার সংস্কার কাজের সময় পরিকল্পনাহীনভাবে এক্সকেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি খোঁড়ায় খুঁটিগুলো হেলে পড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ঠিকাদার মাটি খুঁড়ে বৈদ্যুতিক পোলের গোড়া বের করে ফেলেছিল। কিন্তু সেখানে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখেনি। মাটি খোঁড়ার সময় খুঁটিগুলোর গোড়ায় বালু ভর্তি বস্তা দেওয়ার জন্য আমরা বলেছিলাম, কিন্তু ঠিকাদার সে পরামর্শও আমলে নেয়নি। ফলে গোড়ার মাটি সরে গিয়ে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের পাঁচটি খুঁটি পড়ে যায়। এরমধ্যে দুটি খুঁটির সঙ্গে একটি ট্রান্সফরমার রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জলাবদ্ধতা দূর করতে কেসিসি ড্রেন প্রশস্তকরণের কাজ করছে। তবে ঠিকাদার মেশিন দিয়ে ড্রেন কাটতে গিয়ে অনেক দোকান ও বাড়ির সীমানায় ঢুকে পড়েছে। এর ফলে সীমানা দেয়াল ও ভবনের সামনের বর্ধিত অংশ, ছোট ছোট দোকান ঘরের সাটার, সামনের স্লাব, ফুলের বাগান ধসে পড়েছে।
স্থানীয় দোকান মালিক মাঝহারুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার কারও কোনও কথা শুনছেন না। নিজের ইচ্ছেমতো খোঁড়াখুঁড়ি করে যাচ্ছেন। ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় শ্রমিকরা খাম খেয়ালিপনা করে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কাটছে। এতে করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি সিটি করপোরেশনের ড্রেনের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। দোকানের সামনের অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ধারাবাহিকতায় সোমবার বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে।
মহানগরীর ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান কাকন বলেন, যেকোনও উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমনভাবে কাজ না করার জন্য ঠিকাদারদের নির্দেশনা দেওয়া থাকে। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা এ বিষয়ে কোনও খেয়াল রাখেন না। অনিয়ন্ত্রিত খোঁড়ার জন্য দোকান ও বাড়ির নিচ থেকে বালি সরে যাচ্ছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন বৈদ্যুতিক খুঁটিও পড়ে গেল।
সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, এক্সকেভেটর দিয়ে ফুটপাত উপড়ে ফেলায় ব্যাংক, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের কোনও ব্যবস্থা নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো কাঠের মাচা, লোহার সিঁড়ি তৈরি করে চলাচল করছে। ড্রেনের পানি সড়কে চলে আসায় কাদাপানিতে নাকাল হচ্ছেন পথচারীরা। সড়কের ভারতীয় ভিসা আবেদন গ্রহণ কেন্দ্রের পাশে এক্সকেভেটর দিয়ে গর্ত খোঁড়া হয়। এতে গণস্বাস্থ্য সংস্থার দুটি প্লটের প্রায় ৯০ ফুট সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। পাশের একটি গাড়ি বিক্রির শো রুমেরও ফুটপাত ধসে পড়েছে। ধস ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বাঁশ ও গাছ দিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ড্রেন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স এর সত্বাধিকারী আওয়ামী লীগ নেতা তসলিম আহমেদ আশা বলেন, ড্রেন নির্মাণের জন্য সাত ফুট গর্ত খুঁড়তে হচ্ছে। ড্রেনের আশপাশের যে সব স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোর ভিত তিন ফুটেরও কম। বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোও ড্রেনের স্লাব ঘেষে তৈরি করা। ফলে ড্রেনের স্লাব ও সীমানা দেয়াল তুলে ফেলার পরই ওই খুঁটিগুলোর গোড়া খালি হয়ে পড়ে। এ সমস্যার কারণেই ধসের ঘটনা ঘটছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, কেডিএ অ্যাভিনিউ সড়কে বিদ্যুতের হেলে পড়া খুঁটি দ্রুত অপসারণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা দূর করতে কেসিসি ড্রেন প্রশস্তকরণ কাজের ঠিকাদারকে খনন কাজটি আরও সতর্কতার সঙ্গে করার নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মহানগরীর কেডিএ অ্যাভিনিউয়ের দুই পাশে ড্রেন পুনর্নির্মাণ কাজ ২২ জুলাই শুরু করে কেসিসি। ‘মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (এমজিএস) প্রকল্পের আওতায় নগরীর চারটি সড়ক সংস্কার ও ড্রেন পুনর্নির্মাণের জন্য ৩৫ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এমজিএস প্রকল্পের অধীনে কেডিএ এভিনিউ এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবু আহমেদ সড়কের ড্রেন ও ফুটপাত পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। এ দুটি সড়কের ড্রেন উন্নয়ন কাজে মোট বরাদ্দ ১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এই কাজের আওতায় শিববাড়ি মোড় থেকে রয়েল মোড় পর্যন্ত ১ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার সড়কের দুইপাশের ড্রেন নতুন করে নির্মাণ এবং সড়কটি কার্পেটিং করার কথা রয়েছে। প্যাকেজের এই অংশে ব্যয় ধরা আছে ১৩ কোটি টাকা।