ওই ঘটনার সময় বাগেরহাটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন নাজিম উদ্দিন। ফিল্মি স্টাইলে বই বিতরণের অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল দখল করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেও কোনও ফল পাওয়া যায়নি।
নাজিম উদ্দিন কেন এমন করলেন—জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খান রেজাউল ইসলাম বলেন, “বই বিতরণ অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলের ভেতর হঠাৎ একদল মানুষ ঢুকে পড়ে। সব কার্যক্রম বন্ধ করে স্টেজে পুলিশ বসিয়ে দেয়। আমি লোকজনের কাছে শুনলাম তিনি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নদীর পাড়ে বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পিওন শাহাদাতের ভাই কেরামত শেখকে দখল করিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি বাহিনী নিয়ে এসেছেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি (নাজিম উদ্দিন) ধমক দিয়ে বলেন, ‘মুখ থেকে একটা কথা বের করলেই মোবাইল কোর্ট দিয়ে জেলে পাঠাবো।’ সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ।”
আক্ষেপ করে এই শিক্ষক বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্র তার থেকেও অনেক বড় পদে আছে। সে আমার ছাত্রের থেকেও বয়সে ছোট হবে। সে কোনও শিক্ষকেরই ছাত্র হবে। সবার সামনে আমাকে যেভাবে ধমক দিলো, আমার মুখ থেকে আর কোনও কথা বের হয়নি। জীবনে এমন অপমান আমাকে কেউ করেনি। সেই কথা মনে উঠলে এখনও আমি সহ্য করতে পারি না। চোখে পানি চলে আসে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর বিষয়টি তৎকালীন জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাসকে জানিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেননি। পরে আমরা লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও করেছিলাম। তাতেও কাজ হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় ম্যাজিস্ট্রেট নাজিম উদ্দিন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পিয়নের ভাইকে বিদ্যালয়ের জমি দখল করিয়ে দিতে এসেছিলেন। আমরা এর কোনও প্রতিকার পাইনি। এটারও বিচার হওয়া জরুরি।’
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহিব্বুল্লাহ বলেন, ‘একজন ম্যাজিস্ট্রেটের এমন আচরণ হতে পারে, এটা আমি কোনোদিন চিন্তাই করিনি। যে লোক বড়দের সম্মান করে না, সে ভালো মানুষ হতে পারে না।’ তিনি ম্যাজিস্ট্রেট নাজিম উদ্দিনের শাস্তির দাবি করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও বেমরতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, ‘সেদিন ওই মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাসহ অনেক গুণী ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের এমন অভদ্র আচরণ দেখে সবাই কষ্ট পেয়েছেন। বই বিতরণ অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পর সবাই যার যার মতো চলে যায়।’
প্রসঙ্গত, ১৩ মার্চ বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রামে প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের বাড়িতে মধ্যরাতে হানা দিয়ে তাকে তুলে ডিসি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন শেষে মাদক দিয়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৫ মার্চ আরিফ মুক্তি পান। এই ঘটনায় কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও দুই সহকারী কমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
ধরে এনে দুই জনকে সাক্ষী করা হয় সাংবাদিক আরিফুলকে সাজার পরদিন
প্রত্যাহারের পরও এক মৎস্যজীবীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখালেন আরডিসি নাজিম (ভিডিও)
ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন ডিসি সুলতানা
আরিফ কারাগার থেকে বের হওয়ার পরেই ডিসি সুলতানা যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন (অডিও)
আরডিসি নাজিম ও দুই সহকারী কমিশনার প্রত্যাহার
প্রতিবেদন দুপুরের মধ্যেই, পুরো ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে
কারা দিয়েছিল সেই ১৫০ গ্রাম গাঁজা ও আধা বোতল মদ?
শুক্রবার মধ্যরাতে যা ঘটেছিল সাংবাদিক আরিফের বাসায় (ভিডিও)
প্রতিশোধ নিতেই আইনের অপপ্রয়োগ!
‘ডিসি অফিসে নিয়ে সাংবাদিক আরিফকে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে পেটানো হয়’
মধ্যরাতে আরিফকে গ্রেফতার করে সাজা: রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ
আরিফের ওপর অন্যায় হয়ে থাকলে ডিসিকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে: প্রতিমন্ত্রী
‘রাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতে পারেন না মোবাইল কোর্ট’
মোবাইল কোর্টে আরিফকে সাজায় ক্ষুব্ধ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তদন্তের নির্দেশ
কুড়িগ্রামের ডিসির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে বললেন আইনমন্ত্রী
‘তুই অনেক জ্বালাচ্ছিস- বলে মারতে মারতে নিয়ে যায় আরিফকে’
মধ্যরাতে বাড়ি থেকে সাংবাদিককে ধরে নিয়ে মোবাইল কোর্টে এক বছরের জেল
মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুলকে তুলে নিয়ে গেলো মোবাইল কোর্ট
আরিফের আটক ও সাজার আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ডিসি সুলতানা
কাবিখা’র টাকায় পুকুর সংস্কার করে ডিসি’র নামে নামকরণ!