ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বাঘটির মৃত্যুর কারণ

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ধনচেবাড়িয়াচর এলাকার ভোলা নদীর চর থেকে উদ্ধার করা একটি মৃত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ময়নাতদন্ত শনিবার সকালে শরণখোলা রেঞ্জে সম্পন্ন হয়েছে। মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জিএম আব্দুল কুদ্দুস মৃত বাঘটির ময়না তদন্ত করেন। তবে বাঘটির মৃত্যু বেশ আগে হওয়ায় এর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় সম্ভব হয়নি।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জিএম আব্দুল কুদ্দুস বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ময়নাতদন্তকালে দেখা গেছে, মৃতবাঘটি উদ্ধার হওয়ার ৫ দিন আগেই মারা গেছে। এ কারণে বাঘটির লিভার (যকৃত) ও হার্ট (হৃদপিণ্ড) পচে গেছে। একটি বাঘ সাধারণত ২০ বছর বেঁচে থাকে। তাই আনুমানিক ১৫ বছর বয়সের ৭ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রাপ্তবয়স্ক এই বাঘটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়না তদন্তকালে ভিসেরা সংগ্রহ করে ঢাকায় ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। ফরেনসিক ল্যাবের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বাঘটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো.জয়নুল আবেদীন জানান, মৃত বাঘটির শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়নি। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, ১৫ বছর বয়সী এই মাদি বাঘটি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গিয়ে থাকতে পারে।

শরণখোলা রেঞ্জের ধনচেবাড়িয়ার চরে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বনজীবীরা ওই মৃত বাঘটি দেখতে পেয়ে সুন্দরবন বিভাগকে খবর দেয়। শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নুল আবেদীন বনরক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে রাতেই বাঘের মৃতদেহটি উদ্ধার করে রেঞ্জে নিয়ে আসেন।

এর আগে গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি শরণখোলা রেঞ্জের কটকা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অভয়ারণ্যের ছাপড়াখালী খালের চর থেকে একটি বাঘিনীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ওই মৃত বাঘটির পেছনের অংশ কুমিরে খাওয়া অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। উদ্ধারের পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে প্রাণীটিকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়।

এছাড়াও গতবছর এক পা খোঁড়া একটি বাঘ বেশ কিছুদিন সুন্দরবনে ঘুরে বেড়ানোর পরে শিকার সংগ্রহ করতে না পেরে মারা যায়।

এরও আগে ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট দুপুরে কটকা বন অফিসের বনরক্ষীরা টহল দেওয়ার সময় ছাপড়াখালী অভ্য়ারণ্যে একটি মৃত বাঘকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বাঘটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

এদিকে গত ২০ জানুয়ারি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ক্রেতা সেজে সুন্দরবনের একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘের চামড়াসহ মো. গাউস ফকির নামে এক চোরা শিকারীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা।

আরও পড়ুন:

সুন্দরবন থেকে উদ্ধার মৃত বাঘের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন