ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে খুলনার ৩২০২ হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে। আরও কিছুদিন পানি জমে থাকলে আমনের আরও ক্ষতি হবে। যেসব জমির ধান পেকেছে সেগুলো কাটা হচ্ছে। জাওয়াদ আসার আগে ২৯ ভাগ জমির আমন কাটা সম্পন্ন হয়েছিল। বাকি পাকা ধান কাটা ও কিছু ধান পাকার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে খুলনা জেলার ৩২০২ হেক্টর জমির রোপা আমন, ১২ হেক্টর জমির সবজি, ৮ হেক্টর জমির বোরো ধানের বীজতলা, ৮ হেক্টর জমির সরিষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমনের মধ্যে বটিয়াঘাটায় এক হাজার ২০০ হেক্টর, কয়রায় ৮০০ হেক্টর, দাকোপে ৭০০ হেক্টর ও পাইকগাছায় ৫০০ হেক্টর জমি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বোরো বীজতলার মধ্যে ডুমুরিয়ায় ৫ হেক্টর রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবজির মধ্যে ডুমুরিয়ার ১০ হেক্টর জমি রয়েছে। সরিষার মধ্যে ডুমুরিয়ার ৫ হেক্টর।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর সারাদিন বৃষ্টি হয়েছিল। ৫ ডিসেম্বর ভোর থেকে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে থাকে। ৬ ডিসেম্বর বিকাল পর্যন্ত প্রচুর বৃষ্টি ছিল। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ধান ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকা আমন, বোরোর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শীতের সবজি টমেটো, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক ও মুলাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের নিমের শীষা বিলের কৃষক ভজন মল্লিক ও অরুণ মল্লিক জানান, আগার বিলসহ নিমের শিষা, গোপাল নগর, শিবপুর, তাঁতি খালি, কাঁকড়া খালি ও পাতি বুনিয়া বিলে প্রচুর আমন ধান চাষ হয়। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। ফসল ঘরে তোলার আনন্দে ছিলাম আমরা। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব আশা ভেঙে যেতে বসেছে। বিলের ধান ঘরে তুলতে পারিনি। অধিকাংশ কৃষকের ধান কেটে ক্ষেতে রাখা ছিল। কেউ কেউ আঁটি বেঁধে রেখেছিলেন। বর্ষায় কাটা ধান ও আঁটি পানিতে ভেসে যায়। অধিকাংশ কৃষকের ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর বিলের কৃষক আবুল কাশেম মোল্লা ও শরাফপুর ইউনিয়নের চরের বিলের কৃষক ফনিভূষণ মন্ডল জানান, বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চারার জন্য বীজতলায় ধান ফেলা হয়। এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির পানি জমে বীজতলার ধান পচে যায়।
খর্ণিয়া ইউনিয়নের ভদ্রদিয়া গ্রামের কৃষক প্রকাশ চন্দ্র সরকার জানান, হঠাৎ বৃষ্টিতে ফুলকপি, ওলকপি ও টমেটো গাছ মাটিতে শুয়ে পড়ে। চার-পাঁচ দিন পানির নিচে থাকায় এসব গাছ পচে যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছিল। ২১ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ১৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা ও ১৩০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ করা হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।