পাবনার ঈশ্বরদীতে অপহরণের চার দিন পর এক কলেজশিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া নওদাপাড়া থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মো. হৃদয় উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপুর গ্রামের মজনু আলীর ছেলে। তিনি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাকশীর রূপপুর তিনবটতলা এলাকা থেকে হৃদয়কে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে অপহরণকারীরা হৃদয়ের মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে বাবার কাছে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
হৃদয়ের ভাই জীবন হোসেন বলেন, ঘটনার দিন সকালে দোকানে আসার পরই একটি সাদা মাইক্রোবাস আসে। সবার সামনে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি হৃদয়কে মাইক্রোবাসে তুলে পাবনার দিকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
হৃদয়ের বাবা মজনু আলী বলেন, 'অপহরণের পর শুক্রবার বিকালে হৃদয়ের মোবাইল নম্বর থেকে আমাকে কল দিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ওই দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। চার দিন পর ছেলের লাশ পেলাম।'
পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম বলেন, 'অভিযোগের পর থেকেই তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত ছিল আমাদের। মুক্তিপণ চাওয়া অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে সোমবার রাতে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দাশুড়িয়া-লালন শাহ সেতুর মহাসড়কের নওদাপাড়া দোতলা মসজিদ সংলগ্ন চাঁদ আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। চক্রটি ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।'
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, অপহরণের এক-দুদিন পরই হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশে পচন ধরেছিল। এক অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।