যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল গং দেশে নাশকতার চেষ্টা করছে। তবে তারা সফল হবে না। কারণ, শেখ হাসিনার ওপর দেশের মানুষের আস্থা আছে। সব অপশক্তিকে আমরা প্রতিহত করবো।’
মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিকাল ৩টায় যশোর শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। কারণ, বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য একমাত্র বঙ্গবন্ধুই সেই ব্যক্তি, যিনি কখনও আপস করেননি, তার ডাকেই মুক্তিযুদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু যখন পুনর্গঠন করছেন, তখন আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও একাত্তরের পরাজিত শক্তি, যারা কোনও সময় বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, তারা একত্রিত হয়ে কী করে দেশের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ করে দেওয়া যায় সেই চিন্তা করে। বঙ্গবন্ধুকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করে তারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণত করার পাঁয়তারা আবার শুরু হয়ে যায়। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত একের পর এক সামরিক জান্তা—জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশকে নব্য পাকিস্তানে পরিণত করেছিল।’
এমপি বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে আবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রতিষ্ঠা করেন শেখ হাসিনা। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক চক্রান্তে তিনি ক্ষমতা থেকে চলে যান। ২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ১৩ বছর ক্ষমতায় আছেন। তিনি মানুষের জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছেন। গত ১৩ বছরে দেশে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। কয়েক দিন আগে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে, যার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী শাহেদ হোসেন নয়ন। বক্তব্য শেষে ১৫ আগস্টে ঘাতকের হাতে নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন তিনি। এরপর দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন কাজী নাবিল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মুন্সি মহিউদ্দীন, কামাল হোসেন, পৌর কাউন্সিলর মোকছিমুল বারী অপু, যুবলীগ সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লাইজু জামান, মেহেদি হাসান মিন্টু, মঈন উদ্দীন মিঠু, সৈয়দ মেহেদি হাসান, সেলিম আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
পরে বেজপাড়া, চোপদারপাড়া ও যশোর এমএসটিপি কলেজিয়েট স্কুল মোড়ে স্থানীয় যুবলীগ আয়োজিত শোক দিবস উপলক্ষে দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। বিকাল পৌনে ৪টায় পুরাতন কসবা কাজীপাড়ায় নিজ বাসভবনে পৌঁছান তিনি।