‘বিএনপি-জামায়াতের আমলে দেশ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল’

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। তখন স্লোগান দেওয়া হতো—বাংলা হবে আফগান, আমরা সবাই তালেবান। এসব কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। কারণ, তারা আবার এসব কর্মকাণ্ডের পাঁয়তারা করছে।’

বুধবার (১৭ আগস্ট) বিকাল সোয়া ৫টায় যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্য শেষে খাবার বিতরণ করেন এমপি।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আমরা হারিয়েছিলাম বেগম আইভি রহমানসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে। এরপর ২০০৫ সালের এই দিনে সারা দেশে ৫০০টি স্পটে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। এতে দুই জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন।’

Kazi-Nabil-2

তিনি আরও বলেন, ‘বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন। তার ডাকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু একের পর এক সংকট মোকাবিলা করেছেন। তখন খাদ্য ছিল না, বস্ত্র ছিল না, যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না, বাণিজ্য ছিল না। যখন তিনি বাংলাদেশকে গড়ে তুলছেন, তখন একের পর এক কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করা হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে আবারও তুলে দাঁড় করিয়েছেন, তখনই তাকে হত্যা করা হয়।’

এমপি বলেন, ‘সৌভাগ্য যে ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান বিদেশে থাকায়। এরপর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে আবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রতিষ্ঠা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বিভিন্ন সৃজনশীল প্রকল্প গ্রহণ করেন। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক চক্রান্তে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ১৩ বছর ক্ষমতায় আছেন। পর পর তিন মেয়াদে মানুষের জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছেন।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন লেবুতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহাউদ্দীন মাস্টার। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান মিন্টু ও ইউপি চেয়ারম্যান আলীমুজ্জামান মিলন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক লীগ নেতা জবেদ আলী, পৌর কাউন্সিলর মোকছিমুল বারী অপু, জাহিদ হোসেন মিলন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, রবি সিদ্দিকী, লাইজু জামান, মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, অ্যাডভোকেট সেতারা খাতুন প্রমুখ।