যশোরে ৫ হাজার মানুষকে কম্বল দিলেন যুবলীগ নেতা

চলতি মাসে শীতার্তদের মাঝে প্রায় পাঁচ হাজার কম্বল বিতরণ করেছেন যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল। নিজের অর্থায়নে যশোর শহরের ৯ ওয়ার্ডে এসব কম্বল বিতরণ করেন তিনি।

আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ‘যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে মানবিক যুবলীগ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দীর্ঘদিন যশোর জেলায় কাজ করছি। তারই ধারাবাহিকতায় যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের দিক-নির্দেশনায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করছি। ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কম্বল বিতরণ করেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথেই যশোর জেলা যুবলীগকে মানবিক যুবলীগে রূপান্তরের জন্য কাজ করছি।’

গত ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে যশোর রেলস্টেশনে অবস্থানরত অসহায়দের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন এই যুবলীগ নেতা। পরদিন শহরের ৯টি ওয়ার্ডে বিতরণের জন্য নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের কাছে দুই হাজার কম্বল দেন। এরপর থেকে তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কম্বল বিতরণ করেন। সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারি শহরের খড়কী এলাকায় কম্বল বিতরণ করেন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার কম্বল বিতরণ করেছেন।

যশোর শহরের ৯ ওয়ার্ডে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়

বিভিন্ন সময় কম্বল বিতরণকালে তার সঙ্গে ছিলেন জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান আলী, প্রচার সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শেখ জাহিদ হোসেন মিলন, দফতর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, অর্থ সম্পাদক ফিরোজ আলম, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক কাজী তৌফিকুল ইসলাম শাপলা, শ্রম ও কল্যাণ কামরুজ্জামান মামুন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম সোহাগ, বিএম জাকির হোসেন, জাবের হোসেন জাহিদ, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম বিদ্যুৎ, আহসানুল করীম রহমান, শরীফ মাসুদ এ হিমেল, সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক রেযোয়ান হোসেন মিথুন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সুমন অধিকারী, সাইফুল ইসলাম বনি ও তছিকুর রহমান রাসেল প্রমুখ।

করোনাকালের শুরু থেকে যশোরের মানুষের পাশে দাঁড়ান আনোয়ার হোসেন বিপুল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কর্মহীনদের বাড়িতে পৌঁছে দেন খাদ্যসামগ্রী। ২০২১ সালে কর্মহীন ১৮ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করেন। এছাড়া শহরের আট হাজার পরিবারে পৌঁছে দেন আলু-পটলসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি। শোকের মাস আগস্টে বিতরণ করেন দেড় লাখ প্যাকেট খাবার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে করোনাকালে ১১ কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে যশোরে দুজন গৃহহীনকে নিজ অর্থায়নে নির্মাণ করে দেন নতুন বাড়ি। এসব কর্মসূচির কারণে তিনি প্রসংসিত।

আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ‘এবার শীতের তীব্রতা তেমন ছিল না। তবে শীতের তীব্রতা বাড়লে আমি শীতার্তদের সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। করোনাকালের শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতে থাকবো।’