চলছে গোলপাতা আহরণ, লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার টন

সুন্দরবনে শুরু হয়েছে গোলপাতা আহরণ। বনবিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বাওয়ালীরা বনের অভ্যন্তরে গিয়ে গোলপাতা কেটে তা নৌকায় বোঝাই করছেন। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত তারা গোলপাতা কাটবেন। এবার গোলপাতা আহরণে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত হাজার টন। আর এই গোলপাতা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার রাজস্ব পাবে বলে জানিয়েছে সুন্দরবন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) ওবায়দুর রহমান জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণের অনুমতি দিয়ে বাওয়ালী পাঠানো হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি তাদের অনুমতি দেওয়া হয়। ৩১ মার্চ পর্যন্তবনের চাঁদপাই ও শ্যালার দুটি কূপ (স্থান) থেকে গোলপাতা কাটবেন। এ ছাড়া অভয়ারণ্য ঘোষিত শরণখোলা কূপ থেকে এবারও গোলপাতা আহরণ বন্ধ রয়েছে।

এবার চাঁদপাই কূপ থেকে তিন হাজার টন এবং শ্যালা কূপ থেকে চার হাজার টন গোলপাতা আহরণ করার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এই গোলপাতা আহরণে ৩৬টি নৌকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নৌকাপ্রতি এবার ৫০০ মণ গোলপাতা আহরণ করতে পারবে বলে জানান বন কর্মকতা ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমে প্রতি কুইন্টাল গোলপাতা আহরণের জন্য রাজস্ব নেওয়া হয়েছিল ২৫ টাকা। আর এবার তা বাড়িয়ে প্রতি কুইন্টাল ৬৮ টাকা করা হয়েছে। তবে দিন দিন গোলপাতার ব্যবহার কমে যাওয়ায় কূপ থেকে গোলপাতা আহরণের পরিমাণ কমে আসছে। তাই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার কম গোলপাতা আহরণ হবে।’

গোলপাতা আহরণে বাওয়ালীরা

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুন্দরবনে আগে বড় বড় নৌকা নিয়ে এসে বাওয়ালীরা অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত গোলপাতা কেটে নিতেন। এতে তারা অধিক লাভবান হলেও বনবিভাগ প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো। তাই এবার গোলপাতা আহরণের জন্য বাওয়ালীদের বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন,‘বাওয়ালীদের জন্য দেওয়া শর্তগুলো হচ্ছে- গোলপাতা আহরণের সময় বনের অন্য কোনও গাছপালা কাটা যাবে না, বনবিভাগ থেকে পরিমাপ অনুযায়ী ট্রলারে অতিরিক্ত গোলপাতা বোঝাই করা যাবে না, বড় নৌকা বাদ দিয়ে শুধু ১৪ মিটার দৈর্ঘ্যের নৌকার ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া বনের অভ্যন্তরে কোনও বন্যপ্রাণী শিকার করা যাবে না। কোনও বাওয়ালী যদি গোলপাতার পাশাপাশি এসব শর্ত ভঙ্গ করেন কিংবা বনের ক্ষতি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে গোলপাতা আহরণকারী বাওয়ালী শাহাজাহান বলেন, ‘গোলপাতা দিয়ে একসময় উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন ঘরের ছাউনি দিত। গোলপাতার ছাউনি চার-পাঁচ বছর টেকসই হয়। ঘরের ছাউনি ছাড়াও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে বনবিভাগের কড়াকড়ি ও তুলনামূলকভাবে গোলপাতার চেয়ে ঢেউটিনের দাম কম হওয়ায় দিনকে দিন এর ব্যবহার কমছে। তারপরও জীবিকার তাগিদে পুরনো পেশা টিকিয়ে রাখতে গোলপাতা আহরণে বের হয়েছি।’