কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী, কুঠিবাড়িতে নানা আয়োজন

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের নায়ক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬২তম জন্মজয়ন্তী সোমবার (৮ মে)। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এখন সাজ সাজ রব। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা ছাড়াও কবিগুরুর জন্মোৎসব উপলক্ষে কুঠিবাড়ির আঙিনার পাশে বসছে গ্রামীণ মেলা।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী এই উৎসব উদযাপিত হবে।

সোমবার জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ। অনুষ্ঠান সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া শহর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। পদ্মা নদীর তীরবর্তী ছায়াশীতল ও নিরিবিল পরিবেশ থাকার কারণেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বারবার ফিরে আসতেন তার স্মৃতিধন্য এই কুঠিবাড়িতে। এখানে বসেই তিনি রচনা করেছেন কালজয়ী অনেক কাব্যগ্রন্থ, ছোট গল্প, নাটক ও উপন্যাস। বছরজুড়ে এ কুঠিবাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। তবে কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রভক্তদের মনে যেন আলাদা মাত্রা যোগ হয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে এবং ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কালজয়ী এ কবি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে আসেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোট গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়।

রবীন্দ্রনাথকে ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় ভূষিত করা হয়। ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার পত্নীবিয়োগ হয়।

শিলাইদহ কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।