আগামী ২২ মার্চ প্রথম দফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কুষ্টিয়ার মিরপুরে ১০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ১৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও ২২টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে প্রশাসন চিহ্নিত করেছে।
এর মধ্যে উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূণ ৬টি ও সাধারণ ৩টি। তালবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪টি, ঝুঁকিপূর্ণ ২টি ও সাধারণ ৩টি। বারুইপাড়া ইউনিয়নে ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূণ ৫টি, ঝুঁকিপূণ ১টি ও সাধারণ ৪টি। ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূণ ৫টি, ঝুঁকিপূণ ২টি ও সাধারণ ২টি। আমলা ইউনিয়নে ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূণ ৬টি, ঝুঁকিপূণ ১টি ও সাধারণ ৩টি। সরদপুর ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি ও ঝুঁকিপূণ ২টি। ছাতিয়ান ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৩টি ও সাধারণ ১টি। পোড়াদহ ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি ও সাধারণ ২টি। কুর্শা ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি ও সাধারণ ২টি। মালিহাদ ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি, ঝুঁকিপূণ ১টি ও সাধারণ ১টি। আমবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি, ঝুঁকিপূণ ১টি ও সাধারণ ১টি। বিষয়টি মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আক্তারুজ্জামান নিশ্চিত করছেন।
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে মিরপুর উপজেলায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) নেতাকর্মীরা। প্রায় প্রতিদিন এ উপজেলার কোনও না কোনও ইউনিয়নে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গ এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য সংগঠনের প্রার্থীরা দ্বন্দ্ব সংঘাত এড়িয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে বিএনপি নেতাকর্মীরা আশা করছে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হলে সব কয়টি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন।
গত মঙ্গলবারও জাসদ-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করছেন নেতারা। অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ভোটাররা। এছাড়া তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ কুষ্টিয়ার মিরপুর ও ভেড়ামারা এলাকার হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন কোন দিকে যাবে এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে ভোটারদের মধ্যে। দু’দলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে সাধারণ ভোটাররাও আছে আতংকে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এরইমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা যে কোনভাবেই নৌকা প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা আশা করছেন মিরপুরের ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ১০টি ইউনিয়নে তারা নির্বাচিত হবেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মিরপুর উপজেলার ১১ ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়েছে জাসদ। দুটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।
এদিকে প্রতিদিনই প্রচারনায় নেমে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা। হামলায় আহত ও ভাংচুরের মত ঘটনা ঘটছে। জাসদ নেতারা অভিযোগ করে বলেন,আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন ইউনিয়নে জনসভা করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে ও জাসদের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজাদ জাহান জানান,কয়েকটি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে। সামনে যাতে এসব ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইন-শৃংখলা বাহিনী সজাগ রয়েছে।
/জেবি/