শিক্ষামন্ত্রীর পাশে বসেই অব্যাহতির খবর পেলেন যবিপ্রবি উপাচার্য

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) থেকে স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে আবেদন জমাদান শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন শিক্ষামন্ত্রী; তখন উপাচার্য আব্দুল মজিদ শিক্ষামন্ত্রীকে তার অনেক কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিক ভবন থেকে একাডেমিক ভবনে পৌঁছানোর পর জানলেন, অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদকে তার উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তার জায়গায় নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরকে।

সকাল থেকেই যশোরে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে থাকা উপাচার্য আব্দুল মজিদকে খোদ মেজাজে দেখা যায়। অনুষ্ঠান শুরু আগ মুহূর্ত পর্যন্তও ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তিনি চেয়ার হারাতে যাচ্ছেন।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে আব্দুল মজিদকে অব্যাহতি ও নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব শাহ আলম সিরাজ।

বর্তমান উপাচার্যের অব্যাহতির প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদকে যবিপ্রবির উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। তাকে তার মূল কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগে যোগদানের জন্য হয়। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে ইতিমধ্যে এই আদেশের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরকে আগামী চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনও সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর (যবিপ্রবি) চতুর্থ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদ। বিজ্ঞপ্তিতে চার বছরের জন্য তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।  
অব্যাহতির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদ।

তবে ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘটা করে অনুষ্ঠান করেই শিক্ষামন্ত্রীকে ক্যাম্পাসে এনেছিলেন উপাচার্য আব্দুল মজিদ। সেই অনুষ্ঠান স্থলেই অব্যাহতির খবরে বিস্মিত হয়েছেন তিনি।