মোংলার সুন্দরবনের জয়মনির ঘোলে কোস্টগার্ডের স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এতে বাহিনীটির তিন জন সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ওই এলাকার হাড়বাড়ীয়া স্টেশনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। কোস্টগার্ডের ঢাকা সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত তিন জন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম পরিচালনার সুবিধার্থে ওই স্থান থেকে কোস্টগার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। মূলত সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্টগার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশেই এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, ‘সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বনদস্যু দমন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কোস্টগার্ড বাহিনীর চলমান কার্যক্রম কোনও ধরনের হামলা, ভয়ভীতি, অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে।’
কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোস্টগার্ড নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে মোংলা থানাধীন জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ওই এলাকায় কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা ওই এলাকায় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি চায় না। এজন্য হামলা চালিয়েছে তাদের সহযোগীরা।