মেয়েকে কেন হত্যা করলেন বাবা, কারণ জানালো পুলিশ

খুলনা মহানগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার স্কুল ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৭) হত্যায় তার বাবা-মায়ের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সংস্থাটির দাবি, একাধিক প্রেম ও পারিবারিক কলহের কারণে তাকে হত্যা করা হয়।

শনিবার (১১ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, নির্জনার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারসহ চলতি বছর খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৮টি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মামলারই রহস্য উন্মোচন করা হয়। অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হলেও ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্জনার পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। একইসঙ্গে হত্যায় সম্পৃক্ত বাবা-মাকে শনাক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নির্জনার মা জানান তার মেয়ে একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। নির্জনাকে শাসন করতে গিয়ে তার বাবা মারপিট করে। শরীরে আঘাত করার সময় আঘাত মাথায় লাগে। এতে নির্জনা জ্ঞান হারায় ও মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরে বৃষ্টির মধ্যে লাশ নিরালায় ফেলে ঘটনা ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা চলে।

কথা বলছেন কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান

পুলিশ কমিশনার বলেন, বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে খুলনা সদরের প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে থানা-পুলিশ। পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর ছবি প্রচার, বেতার বার্তা পাঠানো এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় থানা-পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্তের ২৪ ঘণ্টার ভেতর নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। সে জেলার সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সিমা দম্পতির কন্যা।

তিনি বলেন, পরে খুলনা সদর-থানা পুলিশ নিহতের বাসায় গিয়ে তার আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে স্বীকার করেন, তার মেয়ে একাধিক ছেলেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ জন্য পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। ওই কলহের কারণেই তাকে হত্যা করে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার বলেন, আরিফা ইয়াসমিন সিমা স্বেচ্ছায় আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নির্জনার বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।