দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চার হাজার ৭৩১ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই বড় অঙ্কের ঘাটতির বোঝা মাথায় নিয়েই নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরিস্থিতি বিবেচনায় গেলো অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৭০২ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, গেলো অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি এবং বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার কারণেই এবার বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের জন্য সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। তবে অর্থবছর শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আদায় করতে সমর্থ হয় মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে বছর শেষে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়। রাজস্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি একই সময়ে এই বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণও প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন কমে গেছে।
রাজস্ব ঘাটতির পেছনে আমদানি কমার পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, গত ছয় মাসে বেনাপোল কাস্টমসে শতাধিক জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত ও আটক করা হয়েছে। এছাড়া গত মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া চারটি পৃথক মামলায় কাস্টমস, বন্দর, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীসহ মোট ৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব জালিয়াতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে।
রাজস্ব আদায়ের নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাস্টমস কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা। বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, “রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে আমদানি কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পাচার, আন্ডার-ইনভয়েসিং ও অন্যান্য অনিয়ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। অন্যথায় বৈধ ব্যবসা প্রসারের মাধ্যমে এই বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।”
এদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কাস্টমস কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “যেকোনও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরিমানা আদায়ের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নতুন অর্থবছরের নির্ধারিত ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”