পালিয়ে যাব না বলে পালিয়েছে, আসি বললেও আর আসবে না: হাসনাত

বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) হাসনাত আব্দুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, পালিয়ে যাব না বলে যে পালিয়ে যায়, সে আসি আসি বললেও আর আসবে না। ওখান থেকে আসার কথা বলে নেতাকর্মীদের বের করবে, আর তারা গণপিটুনির শিকার হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে মেহেরপুরের গাংনী বাসস্ট্যান্ডে এনসিপির 'জুলাই পদযাত্রা' উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, একটি বৃহৎ দাবিদার দল ট্রাঙ্ক, গোলাবারুদ, পার্শ্ববর্তী বিদেশি শক্তি কিংবা টাকা-পয়সা—কোনও কিছুই তাদের টিকিয়ে রাখতে পারেনি। তারা এখন টেলিগ্রামলীগে পরিণত হয়েছে।

বক্তব্যে তিনি শিক্ষামন্ত্রীরও সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির বিরুদ্ধে ভোট 'ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের' অভিযোগ

এর আগে সোমবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার চৌরাস্তার মোড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা শাখার আয়োজিত 'জুলাই জাগরণ' পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের মানুষ এবং পুলিশের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষের ভোট 'ইঞ্জিনিয়ারিং' করে হরণ করেছে। "বিএনপিও একইভাবে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নীলনকশা শুরু করেছে। জনগণ যাদের রেড কার্ড দেখিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তাদের বিভিন্ন দফতরের প্রশাসক হিসেবে বসিয়েছে।"

পথসভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাসার বিপ্লব।

শান্তিপূর্ণভাবে শেষ সমাবেশ

মেহেরপুরের সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে পদযাত্রা শেষে এনসিপির গাড়িবহর গাংনীতে পৌঁছায়। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সমাবেশ শেষে নেতারা কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পোস্টারসংবলিত কুশপুত্তলিকা পোড়ানো এবং দুপুরে সমাবেশস্থলের মঞ্চের ১০ মিটারের মধ্যে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ হয়।